04 April, 2014

তিন দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমেলা উদ্বোধনকালে মোকতাদির চৌধুরী এম.পি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানব সভ্যতাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ প্রধান মন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিশিষ্ট কলামিস্ট, মুক্তিযোদ্ধা ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানব সভ্যতাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আজ আমরা অনেক উন্নত। বিজ্ঞান ছাড়া মানব সভ্যতা থমকে যাবে, তাই মানব জাতিকে বিজ্ঞান নিয়ে গবেষনা করতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিনদিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্ত্বরে জেলা প্রশাসক ডঃ মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোকতাদির চৌধুরী এম.পি আরো বলেন, আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর দেশ গড়তে চাই। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে ডিজিটাল সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ব। ডিজিটাল সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান পিপিএম (বার), পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হামজা মাহমুদ। বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মুখলেছুর রহমান খান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী সলিমুল্লাহ, অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজমীন। এর আগে প্রধান অতিথি মোকতাদির চৌধুরী এম.পি মেলা উদ্বোধন করে বিশেষ অতিথিদের নিয়ে মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৩টি স্টল স্থান পায়।
আশুগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় এক শিশু নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার কামাউড়া এলাকায়। নিহতের নাম হৃদয় (৮)। সে বাহাদুরপুর গ্রামের মোঃ শাহ আলমের পুত্র। বিকেলে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি যাওয়ার সময় রাস্তা পার হওয়ার সময় প্রাইভেটকার চাপায় সে নিহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত এলাকাবাসী ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় আধঘন্টা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেয়। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এব্যাপারে আশুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাংবাদিক এ বি এম মুসা আর নেই
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা। গতকাল বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এবিএম মুসার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি  আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ১৯৩১ সালে ফেনীর ফুলগাজী থানার ধর্মপুর গ্রামে খ্যাতিমান এ সাংবাদিকের জন্ম হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ৮৪ বছরে পা রাখেন প্রবীণ এ সাংবাদিক। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য প্রথিতযশা এই সাংবাদিক কিছুদিন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এদিকে এবিএম মুসার মৃত্যুর সংবাদে সাংবাদিক মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। এবিএম মুসার ছেলে ডা. নাসিম মুসা জানান, তার বাবার প্রথম জানাজা বাদ মাগরিব মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা, এর পর দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তৃতীয় জানাজা হবে। তবে কোথায় তাকে দাফন করা হবে সে বিষয়ে পারিবারিকভাবে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করার আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রবীণ এই সাংবাদিক বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। গত ২৯ মার্চতাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার রাত আড়াইটার দিকে তার অবস্থা  খারাপ হলে তাকে লাইফসাপোর্ট দেয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর এবিএম মূসাকে কয়েকবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেও (আইসিইউ) রাখা হয়। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাবএইড হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। ওইসমময় তার শরীরে রক্ত দেয়া হলে তা ভেঙ্গে যেতে থাকে ডা. বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এবিএম মূসা ১৯৫০ সালে দৈনিক ইনসাফের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ওই বছরেই তিনি ইংরেজি দৈনিক পাকিস্তান অবজারভারে যোগ দেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি পাকিস্তান অবজারভারে রিপোর্টার, স্পোর্টস রিপোর্টার, বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময় সরকার পাকিস্তান অবজারভার বন্ধ করে দিলে তিনি সংবাদে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি বিবিসি, সানডে টাইমস প্রভৃতি পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে রণাঙ্গন থেকে সংবাদ প্রেরণ করতেন। স্বাধীনতার পর তিনি বিটিভির মহাব্যবস্থাপক, মর্নিং নিউজের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৮ সালে এ বি এম মূসা ব্যাংককে অবস্থিত জাতিসংঘের পরিবেশ কার্যক্রমের (এসকাপ) এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদে যোগ দেন। দেশে ফিরে তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এবং ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালে তিনি কিছুদিন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। জনপ্রিয় কলাম লেখক এ বি এম মূসা  বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে আলোচক এবং সংবাদ বিশ্লেষক হিসেবে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এ বি এম মূসা জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ক্লাবের আজীবন সদস্য। তিনি এ পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের চারবার সভাপতি এবং তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।
কসবায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো: জিল্লুর রহমান
সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করার আহ্বান
কসবা প্রতিনিধি ॥ গতকাল বুধবার সকালে কসবা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিজিবি’র উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো: জিল্লুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে: কর্ণেল মো: এরশাদুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ রুহুল আমিন ভূইয়া বকুল, নব-নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডঃ মো: আনিসুল হক ভূইয়া, পৌর মেয়র মুহাম্মদ ইলিয়াস, নবনির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহীন সুলতানা,  কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান. উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক কাজী মো: আজহারুল ইসলাম ও কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার মো: আইনুল হক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, কায়েমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: আমজাদ হোসেন সরকার, কসবা প্রেসক্লাব সাধারণ নেপাল চন্দ্র সাহা, উপজেলা যুবলীগ নেতা মো: আবু জাহের, মো: আলমগীর হোসেন প্রমুখ। বক্তাগণ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধসহ চোরাচালান প্রতিরোধে গণসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। বক্তাগণ চোরাচালান মালামাল জব্দ করার সাথে চোরাচালানীদের গ্রেপ্তার করে প্রকৃত চোরাকারবারীদের চিত্র সমাজের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তাছাড়া ভারতের কমলা সাগর পাড়ে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী কালিমন্দিরে পুজো করার জন্য টোকেনের মাধ্যমে বাংলাদেশীদের ভারতে প্রবেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক, মসজিদের ইমামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ আগামী ১১ এপ্রিল শুক্রবার জেলা আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টায় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য সভায় সকল সদস্যকে যথা সময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।
ক্লাশ করতে বলায়
বাঞ্ছারামপুরে শিক্ষার্থীদের পেটালেন শিক্ষকেরা  ইউএনওকে স্মারকলিপি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥   বাঞ্ছারামপুরে ৮ শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করেছে শিক্ষকেরা। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা সদরের বাঞ্ছারামপুর এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে।  এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। বেত্রাঘাতের শিকার শিক্ষাথীরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যালয়ে ৮ ঘন্টার স্থলে ৪/৫ ঘন্টা করে ক্লাশ নেওয়া হয়। প্রতিদিনই এভাবে ক্লাশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদেরকে বললে কক্ষ নাই ক্লাশ নেওয়া হবে না বলেন। গতকাল শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাশ নেয়ার জন্য বললে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারি শিক্ষক নিখিল চন্দ্র দাস ছাত্রদেরকে বেত্রাঘাত করেন। পরে আহত ছাত্ররা বিক্ষোভ মিছিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে। আহতরা হচ্ছে নবম শ্রেণীর ছাত্র রিয়াজ উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, মাহবুব হাছান, রাহিম হোসেন, রাশেদ আলম এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মোঃ আশিক ও আক্তার হোসেন। আহত আক্তার হোসেনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকীরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি শুধু একটি বেত্রাঘাত করেছি। আমার মনে হচ্ছে ছাত্ররা স্কুল থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজেরা শরীরে আঘাতের চিহ্নগুলো করেছে। তিনি আরো বলেন, একটি কক্ষে সরকারি বই রাখায় ক্লাশ ঠিকমতো নেয়া যাচ্ছে না, কর্তৃপক্ষকে বারবার বলা সত্বেও বই সরিয়ে নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিক বলেন, ছাত্রদেরকে পেটানো দুঃখজনক ঘটনা। ছাত্রদেরকে পেটানোর আইনগত বৈধতা নেই, আমি ছাত্রদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রধান শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়েছে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সাংবাদিক এবিএম মুসার মৃত্যুতে
আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের শোক
বরেণ্য সাংবাদিক এবিএম মুসার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির। এক শোক বার্তায় সাংবাদিকবৃন্দ বলেন, এবিএম মুসা বাংলাদেশে সাংবাদিকতার অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম।  এই বরেণ্য সাংবাদিকের মৃত্যুতে আমরা সাংবাদিক সমাজ একজন অভিভাবককে হারিয়েছি। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
প্রেমের বিয়েকে স্বীকৃতি না দেওয়ায়
বিজয়নগরে বিয়ের ৩দিন পর যুবকের আত্মহত্যা
বিজয়নগর প্রতিনিধি ॥ প্রেমের বিয়েকে স্বীকৃতি না দেওয়ায় বিয়ের মাত্র ৩দিন পর বিজয়নগরে এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের নিদারাবাদ গ্রামে। মৃতের নাম মোঃ জুনায়েদ মিয়া-(২৫)। সে নিদারাবাদ গ্রামের মোঃ শাহজাহান মিয়ার ছেলে। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করে। এলাকাবাসী ও  মৃতের আত্মীয় স্বজন জানান, বিজয়নগর উপজেলার নিদারাবাদ গ্রামের মোঃ শাহজাহান মিয়ার ছেলে জুনায়েদের সাথে একই উপজেলার চম্পকনগর ইউনিয়নের পেটুয়াজুরি গ্রামের মরহুম মালু মিয়ার কন্যা শিরিনা আক্তার-(১৮) এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম চলে আসছিল। গত ৬ এপ্রিল সকালে জুনায়েদ তার প্রেমিকা শিরিনাকে তার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে জুনায়েদের ভগ্নিপতি সরাইল উপজেলার শাহজাদাপুর ইউনিয়নের শাহজাদাপুর গ্রামের জরু মিয়ার বাড়িতে চলে যায়। রাতের বেলা ভগ্নিপতি জরু মিয়া, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ৩ লাখ টাকা দেন মোহরে শিরিনার সাথে জুনায়েদের বিয়ে হয়। বিয়ে পড়ান স্থানীয় মৌলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরী। বিয়েতে স্বাক্ষী হন জরু মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া, এলাকার ইউপি সদস্য আবু সালেক, বাচ্চু মিয়া সর্দার, শাহীন মিয়া, রিপন ও মামুন। বিয়ের পর শিরিনা ও জুনায়েদ জরু মিয়ার বাড়িতেই রাত্রিযাপন করে। বিয়ের সময় কথা হয় ৯ এপ্রিল শিরিনাকে  জুনায়েদ আনুষ্ঠানিকভাবে তার বাড়িতে নিয়ে যাবে। ৭ এপ্রিল জুনায়েদ শিরিনাকে তার পিতার বাড়ি পেটুয়াজুরিতে রেখে আসে। গত মঙ্গলবার রাতে জুনায়েদ নিজ বাড়িতে ফিরে তার পিতাকে শিরিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িতে তুলে আনার প্রস্তাব দিলে জুনায়েদের পিতা শাহজাহান মিয়া প্রেমের বিয়েকে স্বীকৃতি দিতে রাজী হননি। এনিয়ে পিতা-পুত্রের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে শাহজাহান মিয়া জুনায়েদকে বেদম মারধোর করে। পিতার হাতে লাঞ্চিত হয়ে রাতের বেলা জুনায়েদ বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ মৃতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে জুনায়েদের বড় বোন সুরাইয়া বেগম বলেন, গত ৬ এপ্রিল আমার বাড়িতেই জুনায়েদের সাথে শিরিনার বিয়ে হয়। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে শিরিনাকে আমার বাবার বাড়িতে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাবা প্রেমের বিয়েকে স্বীকৃতি না দিয়ে আমার ভাই জুনায়েদকে মারধোর করলে মঙ্গলবার রাতে জুনায়েদ আত্মহত্যা করে। জুনায়েদের নব-বিবাহিতা স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, গত ৬ এপ্রিল রাতে জুনায়েদের ভগ্নিপতি জরু মিয়ার বাড়িতে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ে পড়ান স্থানীয় মাওলানা আফসার উদ্দিন চৌধুরী। কিন্তু বিয়ে রেজিষ্ট্রি হয়নি। কথা ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের সময় আমাদের বিয়ে রেজিষ্ট্রি হবে। কিন্তু আমার শ্বশুর আমাদের বিয়েকে না মেনে আমার স্বামীকে মারধোর করলে রাগ ও অপমানে মঙ্গলবার রাতে সে আত্মহত্যা করে। মঙ্গলবার রাতে আমি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এ ব্যাপারে বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, প্রেমের বিয়ে স্বীকৃতি না দেওয়ায় জুনায়েদ আত্মহত্যা করেছে বলে শুনেছি। তিনি বলেন, বিয়ের কোন কাবিন নেই। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। আমরা ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেছি।
নাটাই গ্রামের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা
দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক ॥ গ্রেপ্তার-৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দু’দলের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। এসময় দাঙ্গাবাজরা প্রতিপক্ষের ৫/৬টি দোকান ভাংচুর ও একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের নাটাই গ্রামে। এলাকাবাসী জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী কাউসার মোল্লার সমর্থক নাটাই গ্রামের ছলিমের গোষ্ঠীর মোঃ আলী (২৫) কে মারধোর করে অপর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ও নাটাই গ্রামের বাসিন্দা মহসিন মিয়ার সমর্থক চান্দের গোষ্ঠীর কালাম (৪৩)। এখবর ছড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের ৫/৬টি দোকান ভাংচুর ও একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দাঙ্গাবাজরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যাপক লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষ চলাকালে ৬ দাঙ্গাবাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আহতদের মধ্যে নজরুল (৪০), ফারুক (৩৫), জোবায়ের (৩৮), হানিফ (৪০), মোরতাজ (২৮), হাকিম (৫০), জাকির (৩২), আনোয়ার মিয়া (২৫) কে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যান্য প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
র‌্যাপ মেধাবী অ্যাওয়ার্ড প্রদানকালে ইউএনও ডঃ আশরাফুল আলম
সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সু-শিক্ষিত-মেধাবীদের বিকল্প নেই
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডঃ আশরাফুল আলম বলেছেন, দেশ এবং জাতির উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য মেধাবী ছাত্রছাত্রী তৈরী করতে শিক্ষক শিক্ষিকা অভিভাবকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে বেশী করে মনোযোগী হতে হবে। কারণ, বর্তমান যুগে দেশ বিদেশে কারিগরীসহ সর্বক্ষেত্রে মেধাবীদের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বেশী। তাই উন্নত এবং সমৃদ্ধ জাতি গঠনে সুশিক্ষিত-মেধাবীদের কোন বিকল্প নেই। তিনি গতকাল বুধবার সকালে সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চান্দপুর তমিজ উদ্দিন হাই স্কুল মাঠে বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রুরাল অ্যাসিসটেন্ড ফর পুত্তর ইমপ্লয়মেন্ট (র‌্যাপ) উদ্যোগে আয়োজিত “র‌্যাপ মেধাবী অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ এর নির্বাচিত ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তমিজ উদ্দিন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবু অহিদ এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন র‌্যাপ এর আইন উপদেষ্টা অ্যাডঃ মোহাম্মদ ইসমাইল মিয়া। বক্তব্য রাখেন মাছিহাতা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি মোঃ আব্দুল হাই ডিলার, লায়ন ফিরোজুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ নিয়াজ মোঃ কাজল, বাসুদেব হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামাল উদ্দিন, চিনাইর আঞ্জুমান আরা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মোশারফ হোসেন, বাসুদেব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেছার উদ্দিন (শেরশাহ), ভাদুঘর ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওঃ একরামুজ্জামান, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ নুরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন র‌্যাপ এর নির্বাহী পরিচালক মোঃ আশিকুর রহমান ভূঁইয়া। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
পহেলা বৈশাখ উদযাপনে
কসবায় নানা কর্মসূচী
কসবা প্রতিনিধি ॥ গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ উদ্যোগে ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি মূলক সভা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জালাল সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১লা বৈশাখ- ১৪২১ বাংলা উদযাপনে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সাংবাদিক এ.বি.এম মুসার মৃত্যুতে
সানাউল হক চৌধুরীর শোক
বর্ষিয়ান সাংবাদিক ও প্রাক্তন সংসদ সদস্য এ.বি.এম মুসার মৃত্যুতে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একমাত্র ইংরেজী অর্থনৈতিক পত্রিকা দি ফিনালসিয়াল এক্সপ্রেস এর সম্পাদকীয় পরামর্শক এবং দৈনিক তিতাস কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক সানাউল হক চৌধুরী শোক বিবৃতিতে বলেন, বয়োজ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সর্বজন শ্রদ্ধেয় এ.বি.এম মুসার মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। সুদীর্ঘ প্রায় ৩ যুগের সম্পর্ক ছেদ করে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সাংবাদিকতায় তার অবদান অপরিসীম এবং কখনো মুছে যাবে না। তিনি যে সাহসিকতার সাথে সত্যের মশাল ধরে রেখেছিলেন তা আমাদের প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য মাইল ফলক হিসেবে সম্মুজ্জ্বল হয়ে থাকবে। প্রয়াত মুসা ভাই আওয়ামীলীগের টিকেটে ১৯৭৩ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সত্যকে সমুন্নত রাখতে তিনি কখনো পিছপা হননি। এমনকি আওয়ামীলীগের অপতৎপরতাকে নিন্দা জানাতে দ্বিধা করেন নাই। আমরা যেন সেই আপোষহীন আদর্শে বলীয়ান হই সেই কামনা করি। তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি রইল আমার শ্রদ্ধা ও সমবেদনা। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
দীর্ঘ এক বছরেও জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি
পদ প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা হতাশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ দীর্ঘ ১ বছর পার হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছাত্রলীগেরও কমিটি নেই। জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও শহর ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে স্থবির হয়ে পড়েছে ছাত্রলীগের কর্মকান্ড। হতাশ হয়ে পড়েছে পদ প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা। নেতা কর্মীরা জানান, শুধু জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি, শহর ছাত্রলীগের কমিটিই নয়, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মসূচীতে অনুপস্থিত থাকেন। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ইসমাইল হোসেন রুবেল ইতিমধ্যেই বিয়ে করে সংসারী হয়ে গেছে। তিনি দীর্ঘ ১ বছর ধরে ঢাকায় অবস্থা করে ব্যবসা করছেন। দলীয় কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করেন না। উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা জানান, শুধু কমিটির আহবায়কই নন, একজন যুগ্ম আহবায়কও বিয়ে করেছেন। এজন্য সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা অবিলম্বে সম্মেলনের মাধ্যমে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন। ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্যাপক আয়োজনে, আনন্দঘন পরিবেশে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) এ বি এম তাজুল ইসলাম এম.পি। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়নের রূপকার মোকতাদির চৌধুরী এম.পি, সাবেক এম.পি মোহাম্মদ শাহআলম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত সিকদার, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডঃ সৈয়দ এমদাদুল বারী, পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত মেজর (অবঃ) জহিরুল হক খান বীর প্রতীক। সম্মেলন উদ্বোধন করেছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ.এম. বদিউজ্জামান সোহাগ। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মোঃ মাসুম বিল্লাহকে সভাপতি ও মোঃ রাসেল মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে সিনিয়র সহ- সভাপতি পদে মোঃ আরিফুর রহমান বাপ্পী, সহ- সভাপতি পদে ইমরানুল হক ভূঁইয়া রনি, আনিছুর রহমান রনি, আকরামুল ইসলাম আকরাম, ওয়াসিম আহমেদ রাব্বি, জামিয়া আক্তার রুমি, শাহ এনায়েত পারভেজ, মিনহাজ মামুন, জয়নাল আবেদীন ও অশেষ রায়’কে রাখা হয়। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়, মোঃ তাজুল ইসলাম আপন, মোঃ মমিন মিয়া ও ইজাজুল হক রাব্বিকে। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়, রবিউল হোসেন রুবেল, মোঃ নুরুজ্জামান, মোঃ আরমান ভূঁইয়া ও মোঃ মহিউদ্দিনকে। প্রচার সম্পাদক শামীম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক সায়েদুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ রাব্বি, সমাজ সেবা সম্পাদক মনির হোসেন, সহ সম্পাদক রাজিবুর রহমান ও সোহেল রানা। সদস্য হিসেবে রাখা হয় মোঃ আতাউর রহমান সনেট, তোফাজ্জল হোসেন তুহিন ও বায়জিদ মোস্তফাকে। কমিটিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করা হয় জাহেদ হোসেন পাভেল, জিয়াউল হক বাদল ও সৈয়দ আমিনুল ইসলাম সাজি’কে। আংশিক কমিটি ঘোষনার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়নি। ইতিমধ্যেই পদ প্রত্যাশী অনেকের বয়স শেষ হওয়ার পথে। ওই সমস্ত নেতারা রয়েছেন চরম হতাশায়। বিক্ষুব্ধ নেতারা জানান, দপ্তর সম্পাদক সায়েদুর রহমান চলে গেছেন বিদেশে। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাসেল মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া হয়েছে। আশা করি অল্প দিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।
নাসিরনগরে তৃণমূল বিএনপির কর্মীসভায় এ. কে. একরামুজ্জামান
দলের জন্য নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে
বিএনপির নির্বাহী কমিটির প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক ও নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান বলেছেন, দেশ ও দলের জন্য নেতাকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। দলের সাথে বেঈমানী করবেন না। তিনি বলেন, নাসিরনগর বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাচনে একদল নেতাকর্মীর দল বিরোধী কর্মকান্ডে ক্ষুব্দ তৃনমূল নেতাকর্মীদের চাপে উপজেলা বিএনপি এ উদ্যোগ  গ্রহণ করেছে। দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ও কুন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান ওমরাও খানকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং কুন্ডা ও ভলাকুট ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তিনি গতকাল বুধবার উপজেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের এক সমাবেশ থেকে এ সিদ্ধান্ত ঘোষনা করেন। এ সভায় উপজেলা বিএনপি, সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং ১৩ টি ইউনিয়ন বিএনপি ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ একে একরামুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সম্পাদক আজিজুর রহমান চৌধুরীর পরিচালনায় এসময় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপি নেতা ইব্রাহিম ভূঞা রেনু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মামুন, সহ সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আলী, মোশারফ হোসেন ভূঞা, ফয়েজ উদ্দিন ভূঞা, চেয়ারম্যান আবদুল হাই চেয়ারম্যান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপজেলা কৃষক দল সভাপতি হাজি সোনা মিয়া, উপজেলা যুবদল আহবায়ক সৈয়দ আবু সারোয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডঃ ইয়াসিন পাঠান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী লুৎফুন্নাহার পাপড়ি, উপজেলা মহিলা দল সাধারণ সম্পাদক তাজমহল বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক গুলনাহার বেগম, জেলা ছাত্রদল সহ সভাপতি মীর জালাল, উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি নাসির উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ চলাকালে উপস্থিত নেতাকর্মীরা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া সকল নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানান। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সম্পাদকীয়

এ ধরণের বর্বরতার অবসান চাই
কসবায় জাতীয় পার্টি সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে ভোট না দেয়ায় নিরীহ এক ভোটারের বাড়িঘর-আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে স্থানীয় এক জাপা নেতা ও তার সমর্থকেরা। গত সোমবার গভীর রাতে কসবার বায়েক ইউনিয়নের বড় বায়েক গ্রামে। অসহায় ওই পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে বলে দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে।
এ ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। এ থেকেই প্রমাণিত হয় আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি। দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের কোন পর্যায়ে আমরা আমাদের সমাজকে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি। ভোট কোন নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও পবিত্র আমানত। কোন নাগরিক কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন, ওই নাগরিকের নিতান্তই ব্যক্তিগত বিষয়। কোন প্রার্থী কিংবা তার সমর্থক কোন ভোটারের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার রয়েছে। ভোট দেয়া না দেয়া তা ভোটারের সম্পূর্ণ ইচ্ছাধীন বিষয়। ভোট প্রদানের পূর্বে ভোটারের বাড়িতে গিয়ে হুমকি প্রদর্শন করা ফৌজদারী অপরাধ। ভোট না দেয়ার অজুহাতে কসবায় নিরীহ ভোটারের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া সুনির্দিষ্ট ফৌজদারী অপরাধ। অতএব, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে কিংবা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের কালবিলম্ব না করে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আমলে এনে স্থানীয় পুলিশ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে হয়তো এ বিষয়ে অগ্রসর নাও হতে পারে। কিন্তু এ অজুহাতে তারা দায় এড়াতে পারেন না। কারণ পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে কোন নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। তাই যেহেতু বিষয়টি ইতিমধ্যেই তাদের গোচরীভূত হয়েছে তাই অভিযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পদক্ষেপ নেয়া তাদের উচিৎ। এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনায় উদাসীনতা প্রদর্শন করা হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে।
সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটদান করতে না পারলে নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আর তা গণতন্ত্রের জন্য সুখকর হবে না। তাই কসবায় নিরীহ ভোটারের বাড়ি ঘর যারা পুড়িয়ে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। এ ধরনের বর্বরতার পুনরাবৃত্তি কোন অবস্থায় কাম্য নয়।