মানবিক কারণে মাসুল বিহীন ট্রানজিট
পাঁচ হাজার টন ভারতীয় চাল আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ দ্বিতীয় দফায় ভারতে নেওয়ার জন্য আরো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চাল নিয়ে চারটি জাহাজ গতকাল রবিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে এসে পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকাল থেকে ওই চাল আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গত ৮ আগস্ট থেকে প্রথম দফার পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চাল একই পথে ভারতে যায়। এদিকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে আরো ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল নেওয়ার লক্ষে ইতিমধ্যেই দরপত্র আহবান করা হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর দরপত্র খোলার পরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় একটি সূত্র। সড়ক ও রেলপথ মেরামত এবং সময় ও খরচ কমানোর কথা চিন্তা করে ভারত সরকার বাংলাদেশের উপর দিয়ে নিজেদের চাল পরিবহনের কথা চিন্তা করে। নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় মানবিক কারণে বাংলাদেশ চাল পরিবহন থেকে কোনো শুল্ক নিচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল রবিবার বিকেল তিনটার দিকে এমভি গালফ্-৩ ও ৭, এমভি দত্তপাড়া এবং এমভি রাইট নামে চারটি জাহাজে করে চাল এসে পৌঁছায় আশুগঞ্জ নৌ-বন্দরে। বড় জাহাজে করে ভারতের বিশাখাপত্তনম থেকে কলকাতায় ও পরে সেখান থেকে ছোট জাহাজে করে আশুগঞ্জ চাল নিয়ে আসা হয়েছে। তবে সন্ধ্যা নাগাদ ওইসব জাহাজ থেকে চাল খালাস শুরু হয় নি। দ্বিতীয় দফার পাঁচ হাজার মেট্রিক টন চাল প্রসঙ্গে পরিবহনকারি সংস্থা গালফ সিওয়েজ ওরিয়েন্টেড এর লজিস্টিক ম্যানেজার মোঃ নুরুজ্জামান জানান, ভারতীয় চাল নিয়ে চারটি জাহাজ আশুগঞ্জে এসে পৌঁছেছে। আমরা চেষ্টা করছি আগামীকাল (আজ) সোমবার থেকে ভারতে চাল পাঠানোর। উল্লেখ্য, আশুগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে এসব চাল সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় আগরতলার খাদ্যগুদামে। ২০১১ সালে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালামালও বিনা শুল্কে বাংলাদেশের উপর দিয়ে পরিবহন করে ভারত। ওই কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিতে ভারত রাজি হয়েছে।
শিশু একাডেমীর উদ্যোগে
শেখ রাসেলের ৫০তম জন্মাবার্ষিকী পালিত
স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যোগে গত শনিবার জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) লুৎফুন নাহার, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার ও সহকারী পুলিশ সুপার (মডেল থানা) তাপস রঞ্জন ঘোষ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মাহফুজা আখতার। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় একাডেমীর প্রশিক্ষক মন্ডলীর মধ্যে ছিলেন সঙ্গীতে পাপিয়া চৌধুরী ও রুনাক সুলতানা পারভীন, নৃত্যে মানস কর, বেহালায় মোঃ সামসুদ্দিন খান, তবলায় বাবুল মালাকার, গিটারে দ্বীপ মোহাম্মদ আজমাইন এবং আবৃত্তিতে অধ্যাপক জামিল ফোরকান ও অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
আজ শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট
সাংবাদিকদের সাথে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দীর্ঘ ৩ বছর পর আজ সোমবার শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। আজ বিকেল ৩টায় স্থানীয় নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক ড.মুহাম্মদ মোররফ হোসেন। মতবিনিময় কালে তিনি বলেন, এবারের জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনেক বেশী জমজমাট হবে। উপজেলা পর্যায়ের কৃতি ফুটবলার তৈরীর আকাংখা নিয়ে এ টুর্নামেন্টকে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। ৯ টি উপজেলা দল সহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা দল মিলিয়ে টুর্নামেন্টে ১০ টি দল অংশ গ্রহণ করবে। নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাদ ছাল্লাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সহ-সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মোঃ আসলাম, প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রেজা, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন জামি, সাংবাদিক মোঃ আরজু ও মনজুরুল আলম।
কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধনকালে ডা. শওকত হোসেন
কৃমির কারণে শিশু অপুষ্টি ও রক্ত শূন্যতায় ভোগে
সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শওকত হোসেন বলেছেন, কৃমির কারণে শিশু অপুষ্টি এবং রক্তশূন্যতায় ভোগে। যার কারণে শিশুর শক্তি, শারীরিক গঠন ও মেধা বৃদ্ধিতে বাধাগ্রস্ত করে। তাই আমাদের সকলেরই দায়িত্ব প্রত্যেকটি শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো। তিনি গতকাল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের উলচাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী ক্ষুদে ডাক্তারদের দ্বারা কৃমি ট্যাবলেট খাইয়ে সপ্তাহের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মেজবাহুল ইসলাম, ইপিআই সুপারটেনডেন্ট আমিনুল ইসলাম, স্বাস্থ্য পরিদর্শক নাজমুল ইসলাম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সদর এমটিপিআই পরিতোষ চন্দ্র দাস, প্রাক্তণ স্বাস্থ্য পরিদর্শক নূরুল ইসলাম ও  স্বাস্থ্য সহকারী শামসুসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এ বছরে ৫ থেকে ১২ বছরের প্রত্যেকটি শিশুকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট ৬লাখ ৯ হাজার শিশুকে খাওয়ানো হবে। এর আওতায় থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,  বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এফতেদিয়া মাদ্রাসা, কিন্ডার গার্টেন, ব্র্যাকসহ ঝরে পড়া শিশুরা এর অর্ন্তভুক্ত। কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহের সপ্তাহের কার্যক্রম চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত। তাই প্রত্যেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়ানো জন্য স্কুলে পাঠান এবং খালি পেটে না খেয়ে ভরা পেটে খাওয়ার অনুরোধ জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শিক্ষকের ছোড়া কলমে
ছাত্রের চোখ নষ্টের উপক্রম!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ শিক্ষকের ছোড়া কলমের আঘাতে এক ছাত্রের চোখ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার দুুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। আহত ছাত্র মোঃ গোলাম রাব্বিকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চক্ষু হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। আহত রাব্বি নিয়াজ মুহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ও পৌর এলাকার শিমরাইল কান্দি গ্রামের মরহুম মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে। চক্ষু হাসপাতালে আহত গোলাম রাব্বি জানায়, গতকাল রবিবার মডেল টেস্ট চলাকালে দু’জন ছাত্র দুষ্টুমি করছিল। এ সময় তাদেরকে লক্ষ্য করে দায়িত্বরত শিক্ষক সুব্রত সরকার কলম ছুড়ে মারে। কলমটি তার বাম চোখে আঘাত হানে। সাথে সাথেই ওই শিক্ষক একটি ড্রপ কিনে দেয়ার জন্য আরেক ছাত্রকে ফার্মেসিতে পাঠায়। কিন্তু  রাব্বি বাড়িতে চলে যায়। রাব্বির মা ও নানী জানান, চোখ মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে দেখে প্রথমে তাকে সদর হাপসাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সেখান থেকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মিটিংয়ে থাকা অবস্থায় এক ছাত্র আঘাত পেয়েছে শুনে স্কুলে আসি। তিনি বলেন, কোন শিক্ষক এটা করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমাদের তত্ত্বাবধানেই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আমরাই তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।
বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রধান কার্যালয়ে চাকুরী প্রার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল- ঘেরাও
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের বাছাইকৃত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিভিন্ন পদের ১৪৩ জন চাকরি প্রার্থীর নিয়োগপত্রের দাবিতে গতকাল রবিবার কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ৪ ঘন্টা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন চাকুরী প্রত্যাশীরা। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চাকুরী প্রত্যাশীরা শহরতলীর বিরাসার এলাকায় অবস্থিত প্রধান কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এসময় বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঢুকতে দেয়নি। এতে করে প্রধান কার্যালয়সহ বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ঘেরাও কর্মসূচী চলাকালে চাকুরী প্রত্যাশীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জুবায়ের আহম্মেদ, রফিকুল ইসলাম, হীরা লাল দেবনাথ, সাদ্দাম হোসেন, জামাল মিয়া, কামাল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশে চাকুরী প্রত্যাশীরা বলেন, চুড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেওয়ার পরও ১৪৩ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছেনা। উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বার বার গড়িমসি করা হচ্ছে। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ) নসিবুজ্জামান তালুকদারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। চাকুরী প্রত্যাশীরা জানান, আগামী ২২ অক্টোবর পেট্টোবাংলায় অনুষ্ঠিতব্য বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এর সমাধান করা হবে, মহা ব্যবস্থাপকের এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা ঘেরাও কমসূচী প্রত্যাহার করে নেন। তারা বলেন, ২২ অক্টোবরের পর  বিষয়টি সমাধান না হলে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য গ্যাস ফিল্ডসের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচী দেবেন। উল্লেখ্য ২০০৮ সালের ৩০ মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর ২০১১ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির কম্পিউটার অপারেটর, গাড়িচালক, ইলেক্ট্রিশিয়ান ও অ্যাটেন্ডেন্ট-এ চার পদে জনবল নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। এরপর ১৪৩ জনকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীতও করা হয়। এ অবস্থায় নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংসদীয় কমিটি তা তদন্ত করে। পরে কোম্পানীর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরুল ইসলাম ও মহাব্যবস্থাপক (মানব সম্পদ উন্নয়ন বিভাগ) মজিবুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়। এতে অনিশ্চিয়তায় পড়ে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি। এরপর থেকেই ওই ১৪৩ জন চাকুরী প্রত্যাশী দফায় দফায় আন্দোলন করে আসছেন। গত বছর  চাকুরী প্রত্যাশীরা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ২৩ জুন নিয়োগ দেওয়ার জন্য কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে ছয় মাস সময় বেঁধে দেন। রায়ের পর চার মাস পেরিয়ে গেলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এখনও নিয়োগদানের কোনো কার্যক্রম শুরু করেনি।
ইবোলা সতর্কতা
আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আফ্রিকান নাগরিক নিষিদ্ধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ইবোলা ভাইরাসের সতর্কতা হিসেবে আখাউড়া স্থলবন্দরে আফ্রিকান নাগরিকদের পারাপার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে আফ্রিকা থেকে ভ্রমণ করে আসা যাত্রীদেরকে ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এ উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে সেখানে। আখাউড়া স্থলবন্দরের কাস্টমস, ইমিগ্রেশন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিআইওয়ান) মোঃ মাইনুদ্দিন জানান, ইবোলা ভাইরাস ঠেকাতে আফ্রিকান কোনো নাগারিক ও আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদেরকে এ বন্দর দিয়ে আসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইবোলা সতর্কতায় এখানে একটি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এ ব্যাপারে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘নির্দেশনা অনুযায়ি বিদেশী নাগরিকদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। গত দু’দিন আগে এক অষ্ট্রেলিয়ান নাগরিক এলে তিনি আফ্রিকান কোনো দেশ ভ্রমণ করেন নি নিশ্চিত হয়েই যেতে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব কার্যক্রম চার মাসের জন্য স্থগিত করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল রবিবার বিচারপতি তারিকুল হাকিম ও বিচারপতি এ কে এম শাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। এ বছর ১৭ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “সহকারী শিক্ষক” পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আদালতে রিট আবেদনের শুনানি করেন অ্যাডঃ শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সামসুদ্দোহা। শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, ২০১১ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪৪ হাজার ৬০৯ জন। এর মধ্য থেকে ১২ হাজার জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। অবশিষ্ট ১৫ হাজার ১৯ জনকে পুল গঠন করে নিয়োগ দেয়ার জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। এদেরকে অপেক্ষমান রেখে চলতি বছরের আবারো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। অপেক্ষমানদের মধ্যে ৫২ জন প্রার্থী রিট আবেদন দায়ের করেন। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে রুলও জারি করেছে। অপেক্ষমান প্রার্থী রেখে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিব, অর্থ সচিব ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজিসহ সংশ্লিস্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নবীনগরের তোফাজ্জল হত্যা মামলা
পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদী ॥ এএসপির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারি পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) শাহরিয়ার আল মামুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামীদের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।  গতকাল রবিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন উপজেলার শিবপুর গ্রামের তোফাজ্জল হত্যা মামলার বাদি আবুল কালাম আজাদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তোফাজ্জল হত্যা মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ও তার পরিবার শংকিত। লিখিত বক্তব্যে মামলার বাদি আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর শিবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ঢাকা থেকে তিনজন সাক্ষী হাজির হয়ে সাক্ষ্য দানকালে এএসপি সার্কেল শাহরিয়ার আল-মামুন আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে সাক্ষীদের সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং সাক্ষীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জেরা করেন। ওই সময় সাক্ষীর কোনো বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয় নি। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ আদালত আসামীদের জামিন বাতিল করলেও আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আসামীদের গ্রেপ্তারের কথা বললে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আসামী ধরতে পারব না। সংবাদ সম্মেলনে আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন, নিহত তোফাজ্জলের ছেলে অপু গ্রামবাসীর সহযোগিতায় তার পিতার হত্যার বিচার চেয়ে শিবপুর ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামে পোস্টার লাগালে পুলিশের সহায়তায় আসামীরা তা ছিড়ে ফেলে এবং হুমকি দেয় কেউ পোস্টার লাগালে তার হাত কেটে ফেলা হবে। সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী আরো অভিযোগ করেন, ময়না তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে উল্লেখিত মামলায় হত্যা মামলা ৩০২ ধারা যুক্ত করায় আসামীরা বাদী পক্ষকে মামলা তুলে নিতে প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। এদিকে মামলার এক নম্বর আসামী সহিদ মেম্বার ও দুই নম্বর আসামী মুসা মিয়াকে বাদ দিয়ে চার্জশিট প্রদানের পায়তারা চলছে। সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী আরো অভিযোগ করেন, দুই নং আসামী মুসা মিয়ার ভাই জাকির হোসেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমানের নামে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছে এই মামলায় তাদের কিছুই হবে না। মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার মালিক আসামী পক্ষ বাদী পক্ষকে প্রকাশেই অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছে। নিরীহ বাদী পক্ষ আসামী পক্ষের অব্যাহত হুমকি-ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং বাদী আবুল কালাম আজাদ আসামীদের হুমকী-ধামকীতে বাড়ি থেকে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তোফাজ্জলের স্ত্রী লতিফা বেগম, ভাতিজা সুমন ও তোফাজ্জলের শিশু দুই পুত্র। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, এ বছর ৮ এপ্রিল উপজেলার শিবপুর গ্রামের সহিদ মেম্বার ও মুছা মিয়া গংদের হামলায় গুরুতর আহত হয় তোফাজ্জল। এসময় পুলিশ আসামীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে সংবাদ সম্মেলন করলে পুলিশ মামলা নিলেও বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা রুজু করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তোফাজ্জল ৫ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেলেও পুলিশ হত্যা মামলা নিতে নানা টালবাহানা করে। এসব ঘটনায় আসামীদের পক্ষ নিয়ে কাজ করেন নবীনগর সার্কেলের এএসপি শাহরিয়ার আল মামুন। এমনকি তিনি কয়েকবার বাদী পক্ষের সাক্ষ্য নেয়ার নামে তাদেরকে ধমকা-ধমকি করেন। হত্যা মামলার পর থেকে ইউপি চেয়রম্যান সামছুল হকের নেতৃত্বে আসামীরা বাদী ও তোফাজ্জলের পরিবারকে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নিতে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। এ ব্যাপারে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডিও করা হয়।
জাতীয় বধির দিবসের আলোচনা সভায় আল মামুন সরকার
প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে
গতকাল রবিবার সকালে জাতীয় বধির দিবস উপলক্ষে মুক বধির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে ও বাংলাদেশ জাতীয় বধির সংস্থার সহযোগিতায় এক বণার্ঢ্য র‌্যালি মুক বধির মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় মুক বধির মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়ে হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর চেয়ারম্যান  মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার। মুক বধির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব আবু হোরায়রাহ্, মুক বধির মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আব্দুস সাত্তার, মজিবুর রহমান প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল মামুন সরকার বলেন, বধিরসহ প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সফল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আসুন আমরা সকলে সম্মিলিতভাবে বধির ও প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে একযোগে কাজ করি। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
বাবার প্রতি তরুন-তরুণীদের ভালোবাসা!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাবার প্রতি তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসা দিন দিন বাড়ছে। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ পাড়া মহল্লার যুবক যুবতীরা বাবার প্রতি ঝুকছে, শুধু শহরে নয় বাবা এখন চলে গেছেন বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে। জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক কালে ইয়াবা ট্যাবলেট সেবীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ইয়াবা সেবীরা ইয়াবা ট্যাবলেটকে সংক্ষেপে “বাবা” বলে ডাকে। গত ৪ মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রচুর পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযান কালে প্রায় অর্ধশতাধিক ইয়াবা ব্যবসায়ীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশী সাড়াশী অভিযানেও থেমে নেই ইয়াবা ব্যবসা। জেলার নবীনগর, সরাইল, নাসিরনগর, বিজয়নগর, আখাউড়া, কসবা ও সদর উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে ইয়াবা সেবীর সংখ্যা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইয়াবা ট্যাবলেট পাচারকারীদের কাছে নিরাপদ ট্রানজিট রুটে পরিনত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। জেলার সীমান্তবর্তী বিজয়নগর, আখাউড়া ও কসবা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট আসছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। পরে বিভিন্ন কৌশলে এসব ইয়াবা ট্যাবলেট চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। পুলিশী অভিযানে মাঝে মাঝে কিছু ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও পাচারকারী গ্রেপ্তার হলেও ইয়াবার বড় চালানগুলো নিরাপদেই চলে যায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত ৪ মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে। সর্বশেষ গতকাল রবিবার সকালে কান্দিপাড়া মাদ্রাসার সামনে বিক্রি করার সময় ১৯পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ইয়াবা ব্যবসায়ী এনামুল হক দুলাল (২০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৭ অক্টোবর ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ আশুগঞ্জের নামধারী সাংবাদিক সুজয় খন্দকার (২৬) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী জালাল (২৮) ও বাচ্চু মিয়া (৩৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৫ অক্টোবর ২৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী কাউছার মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ১১ অক্টোবর ১৯৩ পিস ইয়াবা ট্যাবেলট সহ মাদক ব্যবসায়ী ভুট্টু (৩৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর আখাউড়ার বাউতলা থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী হালিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ কান্দিপাড়ার মাদক সম্রাট আব্দুল আজিজকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ২ হাজার ৩শত পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী ধনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৭ আগস্ট আখাউড়া ও আশুগঞ্জে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৮ হাজার ৯শত ৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী রাজু মিয়া (২৮), শহিদুল ইসলাম (২৭) ও জিল্লু মিয়া (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে নবীনগর বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ শাহিন মিয়া (২৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২০ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার ভাটামাথা এলাকা থেকে ৪শ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গোলাম মওলা টিপু এবং হাফিজ মিয়া (২৬) নামক দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৯ আগস্ট আখাউড়া উপজেলার আমোদাবাদ এলাকা থেকে ৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ নলগরিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন ঝন্টু (২৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১১ জুলাই আখাউড়া রেল স্টেশন থেকে ৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ জীবন খান (২৮) নামক এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫ জুলাই নবীনগর পৌর শহরের উত্তর পাড়া থেকে ৩৬পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী রতন মিয়া (৪২), বিল্লাল মিয়া (২৫) ও কাজল মিয়া (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ৩ জুলাই নবীনগর উপজেলার মাঝিকাড়া গ্রাম থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী দম্পতি কাউছার মিয়া (৩৫) এবং নয়নতারা (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১ জুলাই আখাউড়া রেল কলোনীতে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ মাদক ব্যবসায়ী রাশেদা আক্তার পাটুনি (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা সহ বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী দাপটের সাথেই ইয়াবা ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় জেলার একজন চিকিৎসক বলেছেন, পৌর এলাকার দু’টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ইয়াবা ট্যাবলেটের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন জেলা শহরে ইয়াবা সেবীদেরকে উদ্দেশ্য বিহীন ভাবে ঘুরাফেরা করতে দেখা যায়। ইয়াবা সেবীরা একত্রিত হয়ে বাবার সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন পাড়া মহল্লায়। বাবার খোঁজে ফোন করে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। ইয়াবা সেবীদেরকে শহরের স্টেশন রোড, মধ্যপাড়া পোয়াপুকুর পাড়, লোকনাথ উদ্যানের আশেপাশে, বাগানবাড়ি রাস্তায়, কান্দিপাড়া, সরকারপাড়ার বিভিন্ন স্পটে উদ্দেশ্য বিহীনভাবে ঘুরতে দেখা যায়। কয়েকজন মাদক সেবীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, শহরে প্রচুর ইয়াবাসেবী আছে। দাম বেশী হলেও এতে বেশী নেশা হওয়ায় মাদক সেবীরা ইয়াবার প্রতিই বেশী ঝুঁকছে। জানা গেছে, শহরতলীর ঘাটুরা, পৌর এলাকার কান্দিপাড়া এবং সরকার পাড়ার কয়েকজন ভ্রাম্যমান ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রেতা শহরে ঘুরে ঘুরে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি করে। মাদকসেবীরা ফোন দিলেই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট পৌছে দেয়। শহরবাসী মাদকদ্রব্য প্রতিরোধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমান মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
মোটাতাজাকরণ ওষুধ বিক্রির দায়ে ৩ জনের কারাদন্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ রাজশাহীতে অবৈধভাবে গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ ওষুধ তৈরি ও বিক্রের অভিযোগে ফিউচার ড্রিম এগ্রোভেট কোম্পনির মালিক মাহাবুবুর রহমানসহ তিন জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। গতকাল রবিবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আলামগীর কবির ও শিমুল আখতার এ রায় দেন। মাহাবুবুর রহমান এসএ পরিবহন রাজশাহী শাখার ম্যানেজার। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৫-এর সদস্যরা মহানগরের সপুরা পবাপাড়া এলাকায় ওই কোম্পনীতে অভিযান চালায়। এ সময় কোম্পানীর বৈধতা না থাকা ও ভেজাল ওষুধ মোড়কজাত করে বাজারজাত করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের এমডি মাহাবুবুর রহমানকে ৬ মাসের কারাদন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের কারাদন্ড প্রদান করে। অপরদিকে, বিচারকের সামনে প্রতিষ্ঠানের এমডি মাহাবুবুর রহমানের অর্ধেক শেয়ারের অংশীদার এ মর্মে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় কালী বাবু ও কামরুল হুদাকে দুই মাসের কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় র‌্যাব-৫ এর উপ অধিনায়ক মেজর শফিক উপস্থিত ছিলেন। র‌্যাব-৫ এর মিডিয়া সেলের অফিসার সিনিয়র এএসপি ড. মীর্জা গোলাম সারোয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সরাইল-নাসিরনগর সড়কে গণডাকাতি ॥ আহত-৯
সরাইল প্রতিনিধি ॥ সরাইল-নাসিরনগর সড়কে গণডাকাতি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাত ১১টায় সরাইল উপজেলার বড্ডাপাড়া এলাকায়। ডাকাতের মারধোরে সাংবাদিকসহ ৯জন আহত হয়েছে। ডাকাতির শিকার বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা জানান, রাত ১১টার দিকে একদল মুখোশপড়া ডাকাত সরাইল-নাসিরনগর সড়কের বড্ডাপাড়া খাদ্য গুদামের কাছে ১০/১২টি সিএনজিচালিত অটোরিকসা ও বিজয় টিভির সরাইল প্রতিনিধির মোটর সাইকেল আটক করে। পরে ডাকাতরা অটোরিক্সার যাত্রী ও চালকদেরকে বেদম মারধোর করে নগদ টাকা, মোবাইল সেটসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটে নেয়। ডাকাতরা বিজয় টিভির সরাইল প্রতিনিধি মোহাম্মদ মাসুদ ও তার সঙ্গী মোশাররফকে মারধোর করে তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন সেট, ১টি ক্যামেরা ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনা দেখে ফেলায় ডাকাতরা দুই পথচারীকে মারধোর করে। ডাকাতের মারধোরে আহতরা হলেন, অটোরিক্সা চালক মোঃ কুতুব মিয়া-(৩২), দুলাল মিয়া (৪০), যাত্রী রহিম মিয়া- (২০), সুজন মিয়া-(২৩), কালু মিয়া-(৩০) হারুন মিয়া-(৩৫) ও মাসুদ-(৪২)। এ ব্যাপারে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আলী আরশাদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ডাকাতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।
সাইকেলের টিউবের মধ্যে গাঁজা!
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বাইসাইকেলের টায়ারের টিউবের ভেতরে রাখা গাঁজাসহ আমিরুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের চাপরিগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আমিরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার খলসাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে উপজেলার চাপরিগঞ্জ এলাকায় আমিরুলকে আটক করে তল্লাশি করা হয়। এসময় তার ব্যবহৃত বাই-সাইকেলের টায়ারের টিউবের ভেতরে কৌশলে রাখা পৌনে এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত-২৫
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই গ্রামের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছে। এসময় প্রতিপক্ষের একটি দোকান ও ঘর ভাংচুর করে দাঙ্গাবাজরা। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সন্ধায় সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের ভাটপাড়া ও রাজঘর গ্রামের মধ্যে। এলাকাবাসী জানান, গত শনিবার বিকালে রাজঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে লাঠিখেলা চলাকালে ভাটপাড়ার ভূঞা বাড়ির এক কিশোরের সাথে রাজঘর গ্রামের এক কিশোরের বাক-বিতন্ডা ও মারামারি হয়। এ ঘটনার জের ধরে সন্ধ্যায় ভাটপাড়ার ভূঞা বাড়ি ও রাজঘর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুলিশ কন্সটেবল ইসমাইল হোসেন, মহিন উদ্দিনসহ উভয় পক্ষের ২৫জন আহত হয়। এসময় প্রতিপক্ষের একটি দোকান ও ঘর ভাংচুর করে দাঙ্গাবাজরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ব্যাপক লাঠিপেটা এবং ৩ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের মধ্যে খায়েশ মিয়া-(৩০), মজনু মিয়া-(৩২), দ্বীন ইসলাম-(২৫), আলমগীর মিয়া-(৪৫), সোহাগ মিয়া-(২০), মুশাহিদ মিয়া-(২২), নবীর হোসেন-(২২), হাবিব মিয়া-(৫০), সালাউদ্দিন-(২৫), আলাল মিয়া-(২৩) শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়। এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রনে আছে এ ঘটনায় কোনপক্ষ থানায় মামলা করেনি।
বুধল ইউনিয়নে গ্যাসের দাবিতে
মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রতিটি ঘরে ঘরে গ্যাস সহ চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর শনিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী সফল করার জন্য গ্যাস বাস্তবায়ন সর্বদলীয় ঐক্যজোট ও কার্যনির্বাহী কমিটির সফল নেতাকর্মীসহ এলাকার সর্বস্তরের জনগণের উপস্থিতিতে বুধল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এক জরুরী মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট মুরুব্বী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব তৈয়বুর রহমান। বিশেষ বক্তার বক্তব্য রাখেন বুধল ইউপি চেয়ারম্যান এ কে এমনুরুল হাছান আলম। বক্তব্য রাখেন বুধল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম, গিয়াস, আঃ হক গিয়াস, আঃ হামিদ, সুলতান মাহমুদ, ইউনুস মিয়া, বিল্লালুর রহমান, হামদু মাস্টার, মৌ হাবিবুর রহমান, হাজী ময়দর, ফুল মিয়া মেম্বার, রেহান মেম্বার, আক্তারুজ্জামান, হাজী আরব আলী, আতিকুর রহমান শফিক ও নান্নু সওদাগর প্রমুখ। বক্তারা বলেন, আমাদের চলমান আন্দোলন এর অংশ হিসাবে আমরা আশা করি আগামী ১ নভেম্বর তারিখের শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ সফল করার জন্য সরকার ও প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। বক্তারা আরো বলেন, যতদিন আমাদের দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি না পাব ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আমরা আরো কঠিন কর্মসূচী দিতে বাধ্য হব। উল্লেখ্য বিগত ১১ অক্টোবর এলাকার প্রায় দশ হাজার শান্তি প্রিয় জনগণ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। উক্ত মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভা পরিচালনা করেন আঃ রহমান মাস্টার ও মোঃ আবদুল্লাহ আল রাকিব। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
শেরপুর ড্রেন নির্মান কাজ উদ্বোধনকালে মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন
পৌর এলাকার উন্নয়নে আমরা বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি
পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পৌরসভার অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিরসন, সামাজিক সচেতনতা তৈরি করার লক্ষ্যে আমরা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছি। শহরের সামগ্রিক উন্নয়নকে গতিশীল ও স্থায়ী করতে হলে শহরবাসীকে পৌর অবকাঠামোর রক্ষণা-বেক্ষণ করতে হবে। সময়মত পৌর কর ও পানি কর পরিশোধ করা সহ যাবতীয় পৌর আইন মেনে চলতে হবে। তিনি গতকাল সকালে পৌর এলাকার শেরপুরে ড্রেন নির্মান কাজের উদ্বোধন কালে  এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোহাম্মদ, সাবেক কমিশনার আবুল হোসেন শ্যামল, চেম্বার সাবেক সহ সভাপতি হাজী মোঃ শাহ্জাহান মিয়া, এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি সেলিম খান, শফিকুল ইসলাম, সামছুল হক পুতুল, আলাউদ্দিন আলাল, হাসিম খাঁ, আসলাম মিয়া, গুলজার, আবির মিয়া, শাহাদাৎ হোসেন সায়েম, আমির হোসেন, এমরান হোসেন মাসুদ, আনোয়ার হোসেন সোহেল, হালিমা মোর্শেদ, আব্দুল্লাহ মিয়া, হাজী সাহেদ আলী, তাহের মিয়া, মোর্শেদ মিয়া, দুলাল মিয়া ফুল মিয়া, আলাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া, জুয়েল আহমেদ, জনি প্রমুখ সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সম্পাদকীয়

প্রতিভা অšে¦ষণনে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সহায়ক হোক
স্থানীয় পর্যায়ে খেলোয়াড় সৃষ্টির প্রয়াসে আজ থেকে নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী খেলায় প্রধান অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ফুটবলের ইতিহাস সমৃদ্ধ ছিল। কিন্তু ক্রিকেট খেলার জোয়ারে ফুটবলে কিছুটা ভাটার টান চলছে। কিন্তু বিশ্বকাপ ফুটবলের ফলে ফুটবলে আবার জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তাই জেলা প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি সময়োপযুগী উদ্যোগ।
ফুটবল খেলায় পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলে প্রতিভাধর খেলোয়াড় সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। সে বিবেচনায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা গেলে তৃণমূল পর্যায় থেকে অবশ্যই প্রতিভাধর খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে। যারা ভবিষ্যতে জাতীয় দলসহ এ ডিভিশনের দলে খেলবে। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের মতো উপজেলা পর্যায়েও এ ধরনের টুর্নামেন্টের আয়োজনের উদ্যোগ নিলে তৃণমূল পর্যায় থেকে খেলোয়াড় বাছাইয়ের সুযোগ হবে। যত বেশী টুর্নামেন্টের আয়োজন হবে ততই খেলোয়াড়রা তাদের ক্রীড়া নৈপুন্য প্রদর্শনের সুযোগ হবে। বর্তমানে ক্রিকেটের জয়জয়কার শোনা গেলেও এখনো ফুটবলের দর্শকই এদেশে তুলনামূলক বেশি হবে। গত বিশ্বকাপের পর দেশের আনাচে কানাচে ফুটবলের নতুন করে এক ধরনের উম্মাদনা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন এ উম্মাদনাকে কাজে লাগিয়ে যদি জাগরণ সৃষ্টি করা যায় তাহলে ক্রিকেটের মতো ফুটবলেও বিশ্বপরিমন্ডলে বাংলাদেশ তার অবস্থান সম্মানজক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে। আর সে সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপায়নের জন্য জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট অসাধারণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস।
অপরদিকে তরুণ সমাজকে খেলাধূলায় সম্পৃক্ত করে যদি মাঠমুখী করা যায় তাহলে জাতির জন্য খুবই মঙ্গলজনক হবে। কারণ বর্তমানে তরুণ সমাজ খেলাধূলার চেয়ে মাদকের প্রতি আকর্ষণ আসক্তি বেশি। ফলে সমাজে সন্ত্রাস হানাহানি বাড়ছে। তাই যুব সমাজ যদি খেলাধূলায় ব্যস্ত থাকে তাহলে তারা মাদক কিংবা সন্ত্রাসের মত ধ্বংসাত্মক পথে পা বাড়াবেনা। তাই যুব সমাজকে ধ্বংসাত্মক পথ থেকে রক্ষার জন্য ও ক্রীড়া সংস্থা কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খেলাধূলার ব্যাপক আয়োজন করা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টটি ২০১১ সালে চালু হওয়ার পর কয়েক বছর বিরতি শেষে এবার  দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন হচ্ছে। টুর্ণামেন্টটির যেন প্রতি বছরই আয়োজন করা যায় সেদিকে সংশ্লিষ্ট আন্তরিক নজরদান জরুরী।