নবীনগর থানার এসআইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চাঁদাবাজির মামলা
ওসিকে তদন্তের নির্দেশ আদালতের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ নবীনগর থানার এক এস.আই এবং ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার     সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (নবীনগর) আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা  হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (নবীনগর) আদালতের জৈষ্ঠ্য বিচারিক হাকিম  মনিরা সুলতানা মামলাটির তদন্ত পূর্বক তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এর আগে গত সোমবার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রীপাড়ার নকুল সূত্রধরের স্ত্রী লনী রানী সূত্রধর নবীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সফিকুল ইসলাম এবং উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল হকের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট (নবীনগর) আদালতে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। গতকাল  মঙ্গলবার আদালত বাদী পক্ষের কৌশলী ও বাদীনির বক্তব্য শুনে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগটি তদন্ত করে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া নির্দেশ দেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মে লনী রানী সূত্রধরের ছেলে মিঠুন সূত্রধর উপজেলার শিবপুর বাজারের তার চাচাতো ভাই প্রানতোষ সূত্রধরের দোকানের তালা মেরামত করতে যান। সে সময় শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষের মহলাল ও মাহবুব নামের দুইজন লোক তাকে চোর বলে জড়িয়ে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক ও শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস.আই সফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। মিঠুনকে শিবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে মারধর করেন এসআই সফিকুল। খবর পেয়ে মিঠুনের মা লনী রানী ও ভাই প্রানতোষ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মিঠুনকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে এস.আই তাতে সাড়া দেয়নি। পর দিন সকালে শিবপুর বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় লোকজন ও এসআই সফিকুলকে নিয়ে সালিশে বসেন। সালিশে চেয়ারম্যান মিঠুকে এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই সাথে তার পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। এলাকা না ছাড়লে তার পরিবারকে অগ্নিসংযোগ করারও হুমকি প্রদান করা হয়। লনী রানী পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে রায় কার্যকর করেন। পরে লনী রানী পুনরায় পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে তার ছেলেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করেন। সে সময় এস.আই সফিকুল ইসলাম লনী রানীকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে মিঠুনকে ছাড়িয়ে নিতে বলেন। টাকা না দিলে মিঠুনকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। লনী রানী অনেক কষ্টে ওই দিন রাতে ১০হাজার টাকা নিয়ে এসআইকে দেয়। বাকি টাকা না দেওয়ায় এস.আই মিঠুনকে দুই রাত পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রাখে। ৩০ মে লনী রানী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি অবগত করেন। পুলিশ সুপারের ফোন পেয়ে ঐদিনই এস.আই সফিকুল আরেক এস.আই তফাজ্জল হোসেনের কাছে থাকা ১৮ মে এর এক মামলায় মিঠুনকে আসামি দেখিয়ে জেলা কারাগারে পাঠান। লনী রানী সূত্রধর বলেন, তার ছেলে মিস্ত্রির কাজ করে। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। সে চোর না। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নবীনগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি তার কাছে কোন চাঁদা দাবি করেননি। তিনি বলেন, অভিযোগের প্রমান থাকলে বাদী সেগুলো প্রমান করতে হবে। এ ব্যাপারে শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামছুল হক বলেন, তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ছিল। তাই তার বিরুদ্ধে এ রায় দেয়া হয়েছে। তার পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে দেওয়ার কথা তিনি বলেননি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে হিসাব পরিচালনা বন্ধ রাখতে তিনটি ব্যাংকে ইউএনও’র চিঠি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬০ বছর উত্তীর্ণ প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কাশেম এর স্বাক্ষরে এমপিওতে বেতন ভাতা প্রদান না করা এবং স্বাভাবিক ব্যাংক হিসেব পরিচালনা না করার জন্য তিন ব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ড. আশরাফুল আলম। গত ৯ ও ১০ জুলাই যথাক্রমে জনতা ব্যাংক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান শাখা এবং রূপালী ব্যাংক লিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখা এবং ওয়ান ব্যাংক লিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখাকে পৃথক স্মারকে এ চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১০-০৮-২০০৬ তারিখের পরিপত্রের নির্দেশনানুযায়ী এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা এর স্মারক নং- স্বীকৃতি/০৩/ বিবি/ ১১৫ (২), তাং- ০৩-৩-২০১৪ মোতাবেক প্রধান শিক্ষকের চাকরীর বয়স ৬০ (ষাট) বছর পূর্ণ হওয়ায় তাকে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করে ৭ দিনের মধ্যে বোর্ডকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এ প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কাশেম বিষয়টি পুর্নবিবেচনার জন্য আবেদন করলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান দ্বিতীয় বার স্বীকৃতি/০৩/ বিবি/ ২২৮ (২), তাং- ২৭-৪-২০১৪ স্মারকে আবেদনটি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের পরিপন্থী হওয়ায় বিবেচনা না করে স্বীকৃতি/ ০৩/ বিবি/১১৫, তারিখ ০৩-৩- ২০১৪ মোতাবেক প্রধান শিক্ষককে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক সহকারী প্রধান শিক্ষকের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করে বোর্ডকে অবহিত করার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিকে নির্দেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বয়স ৬০ বছর উত্তীর্ণ হলেও ২ বছর করে ২ বার বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে বিধি লংঘন করে দায়িত্ব বর্ধিত করেছেন যা সরকারি আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমতাবস্থায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কাশেম বিধিবর্হিভূত, মনগড়া, বিধি ও পরিপত্র পরিপন্থীভাবে দায়িত্ব পালন বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমপিও (গচঙ) তে তার স্বাক্ষরে শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদান না করার জন্য জনতা ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান শাখাকে অনুরোধ জানান। অপর চিঠিতে রূপালী ব্যাংক এবং ওয়ান ব্যাংক ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার ব্যবস্থাপকদ্বয়কেও বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কর্তৃক বিভিন্ন ব্যাংকে প্রেরিত চিঠির অনুলিপি জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দেয়া হয়েছে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার
মোঃ তাজুল ইসলামের ইন্তেকাল ॥ আজ দাফন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবক মোঃ তাজুল ইসলাম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না … রাজিউন)। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩ টায় পৌর এলাকার পশ্চিম মেড্ডা নোয়াপাড়ার বাস ভবনে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, ৩ মেয়ে, ২ ছেলে, ৫ ভাই, ১ বোন, নাতি- নাতনী সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল বাদ এশা লোকনাথ উদ্যোন জামে মসজিদ (টেংকের পাড়) প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আজ বুধবার নবীনগর উপজেলার সেমন্তঘর মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পিতার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হবে। অমায়িক ব্যবহারের অধিকারী মোঃ তাজুল ইসলাম দীর্ঘ ১৪ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও সুনামের সাথে দায়িত্বপালন করেছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ফান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। মৃত্যু আগ পর্যন্ত তিনি জেলা সদর হাসপাতাল জামে মসজিদের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করেন।
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে
মোকতাদির চৌধুরী এম.পির শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক  জেলা কমান্ডার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধান মন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, বিশিস্ট লেখক, মুক্তিযোদ্ধা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি। এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে আমরা একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাকে হারালাম। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। তিনি দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করতেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাভিভূত। আমি তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহতায়ালা তাঁকে বেহেস্ত নসিব করেন আমি সেই দোয়া করি। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
আজ পৌর সভার বাজেট অধিবেশন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর সভার ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশন। সকাল ১১ টায় স্থানীয় সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধান মন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব, বিশিষ্ট লেখক, মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি। পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাজেট অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা প্রশাসক ডাঃ মুহাম্মদ  মোশাররফ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডঃ সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী, পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুজ্জামান পিপিএম (বার), সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন সরকার ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে
মোঃ নুরুল হোসেনের শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক জেলা কমান্ডার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তাজুল ইসলামের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ নূরুল হোসেন। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
দেখার কেউ নেই
আশুগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পোনা মাছ
রনি, আশুগঞ্জ ॥ কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই আশুগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পোনা মাছ। শুধু তাই নয়, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত পিরানহা। অবাধে পোনা মাছ বিক্রির ফলে মাছের বংশ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। সরজমিনে দেখা গেছে, আশুগঞ্জ বড় বাজার, রেলগেইট বাজার, চর-চারতলা স্টেশন রোড বাজার, যাত্রাপুর বাজার, সোহাগপুর বাজার, বেড়তলা বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে শোল, গজার, টাকি মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও রুই, কাতলসহ বিভিন্ন মাছের পোনা বিক্রি হচ্ছে। যা বিক্রয় করা দন্ডনীয় অপরাধ। উপজেলার ভোজন রসিকরা চড়া দামে শোল, গজার ও টাকি মাছের পোনা কিনে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন। পোনা মাছ বিক্রয় বন্ধে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
জেলার শ্রেষ্ঠ ও সফল ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক স্বর্ণপদক পেয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ী, সরাইল উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান জেলার সফল ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে বিশেষ অবদান রাখায় “শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্বর্ণপদক ২০১৪” পেয়েছেন। গত সোমবার বিকেলে ঢাকার সেগুন বাগিচার সেগুন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে “শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জীবন ও কর্ম” শীর্ষক আলোচনা সভা ও গুনীজন সংবর্ধনা সভায় বিচারপতি মোঃ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ প্রধান অতিথি থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের হাতে স্বর্ণপদক ও সনদপত্র তুলে দেন। দৈনিক ইত্তেফাকের সহ সম্পাদক মোঃ আবু ফাত্তাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক এম.পি ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী আশরাফুননেসা মোশারফ ও উপ-সচিব তপন কুমার নাথ। ইউনাইটেড মুভমেন্ট হিউম্যান রাইটস’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক স্বর্ণপদক ও সনদ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, আমি জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করছি। এই পদক প্রাপ্তি আমাকে আরো উৎসাহ যোগাবে। যতদিন বেঁচে থাকি দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করে যাব।
প্রয়োজনে কলকাতায় গিয়ে নূর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও ৭ খুনের ঘটনায় নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের প্রয়োজনে কোলকাতায় গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে তদন্ত কমিটি। গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাজাহান আলী মোল্লা। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত প্রশাসনিক তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, আমরা নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় আছি। দেশে আনা হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে দেশে আসতে দেরি হলে প্রয়োজনে কোলকাতায় গিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। শাজাহান আলী মোল্লা জানান, ভারতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিতে হবে। আগামী মাসের শুরুতে নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনায় তারা তাদের প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারবেন বলেও জানান তদন্ত কমিটির প্রধান। নারয়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও অ্যাডঃ চন্দন সরকারসহ ৭ খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে গত ২৭ মে রেড ওয়ারেন্ট জারি করে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। ফ্রান্সভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠানটি ২৭ মে বিকেলে তাদের ওয়ানটেড পারসনের রেড ওয়ারেন্ট পাতায় নূর হোসেনের নাম সংযুক্ত করে। এর আগে রেড ওয়ারেন্টভূক্ত করতে গত ২২ মে পুলিশ সদর দপ্তরকে চিঠি দেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন। পরে পুলিশ সদর দপ্তর রেড ওয়ারেন্টের জন্য ইন্টারপোলকে চিঠি দেয়। নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে আছেন বলে নিশ্চিত হয়েছিল র‌্যাব। গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ ৭জন অপহৃত হন। অপহরণের পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ মাধ্যমে বক্তব্য দিলেও তিন দিনের মাথায় শীতলক্ষ্যা নদীতে অপহৃতদের লাশ ভেসে ওঠার পর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান নূর হোসেন। নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়ে নজরুলসহ ৭জনকে হত্যা করিয়েছেন বলে নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর তখনকার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানাকে চাকরিচ্যুত করে অবসরে পাঠানো হয়। এরপর হাইকোর্টের নির্দেশে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন।
জগতবাজার ও হকার্স মার্কেটের গণশৌচাগার উদ্বোধন কালে মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন
সাধারণ জনগোষ্ঠিকে স্যানিটেশন সুবিধায় আনা হচ্ছে
পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বস্তি এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠি, রাস্তা-ঘাটে চলাচলকারি মানুষদের স্যানিটেশন সুবিধা দেওয়ার জন্য পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গণশৌচাগার, কমিনিউটি ল্যাট্রিন ও ১ কক্ষ বিশিষ্ট ল্যাট্রিন নির্মান করা হয়েছে। এসমস্ত শৌচাগার ব্যবহার করে পৌরসভাকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। তিনি গতকাল সকালে জগত বাজার ও হকার্স মার্কেটের গণশৌচাগার উদ্বোধন কালে একথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম মহিউদ্দিন খন্দকার, জগৎ বাজার ব্যবাসায়ী কমিটির সভাপতি হাজী মোঃ শাহজাহান, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, জেলা চেম্বারের উর্ধ্বতন সহ সভাপতি আশরাফুল আলম মাহফুজ, সহ সভাপতি মোঃ আল মামুন, চেম্বার পরিচালক মিজান আনসারি, অরূপ সাহা প্রমুখ। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
অসাংবাদিকদের রুখতে হবে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর বলেন, অসাংবাদিকরা যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে সাংবাদিক নেতা ও কর্মরত সংবাদ কর্মীদের তা খেয়াল রাখতে হবে। তাদের রুখে দিতে হবে। সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে অপসাংবাদিকতা হলে সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে। তখন আর সাংবাদিকতা বলতে কিছু থাকবে না। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের নিয়ে কর্মশালার সমাপনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। ‘ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজ’ বিষয়ক চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে দু’দিন ব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সিইউজের সভাপতি এজাজ ইউসুফীর সভাপতিত্বে  কর্মশালার সমাপনি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএমএ চট্টগ্রাম সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি আলী আব্বাস, সিইউজে সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, নির্বাহী সদস্য রাশেদ মাহমুদ। সমাপনি দিনে প্রশিক্ষণ দেন কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার তৌফিক মারুফ। পিআইবি মহাপরিচালক শাহ আলমগীর বলেন, যেকোন নিউজ করার সময় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। আপনার কলমের খোঁচায় একজন মানুষের তিলে তিলে গড়ে তোলা সারা জীবনের অর্জন নিমিষেই শেষ  হয়ে যেতে পারে। সুতরাং আপনাকেই বেছে নিতে হবে আপনি কি করবেন। আপনি কি কলম দিয়ে মানুষ খুন করবেন? না দেশকে বিশ্ব মঞ্চে তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষের আস্থা আছে সাংবাদিকদের প্রতি। যখন কোন মানুষ জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়ে বিচার পাই না, পুলিশের কাছে গিয়ে বিচার পায় না, তখন মানুষ সাংবাদিকদের কাছে আশ্রয় খোঁজে। একমাত্র অবলম্বন মনে করে।  সুতরাং এ আস্থা হারিয়ে গেলে আর সাংবাদিকতা বলে কিছু থাকবে না। এখন পুলিশের কথা বললে যেমন মানুষের কাছে একটি নেতিবাচক প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে, তেমনি সাংবাদিকদের কথা বললেও নেতিবাচক প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠবে। কর্মশালার সমাপনি অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন পিআইবি’র হিসাব কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দু’দিন ব্যাপী কর্মশালার যুগ্ম সমন্বয়কারী জিলহাজ উদ্দিন। প্রশিক্ষণে চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ কর্মীরা অংশ নেন।
ডেমু ট্রেনের স্টপিজ তুলে নেয়ায়
কসবায় যাত্রী সাধারণের চরম দুর্ভোগ
কসবা প্রতিনিধি ॥ ভোর ৪.৫৫ মিনিটে আখাউড়া থেকে ছেড়ে আসা কুমিল্লা অভিমুখী ডেমু আপ ট্রেনের স্টপিজ কসবা রেল ষ্টেশন থেকে তুলে নেয়ায় যাত্রী সাধারণের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে পুনরায় কসবা রেল ষ্টেশনে ডেমু ট্রেনের স্টপিজ দেয়ার জন্য রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এদিকে কসবা রেল ষ্টেশনে নোটিশের মাধ্যমে জন সাধারণকে অবহিত করা হয় যে, রেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গত ১৫জুন থেকে ডেমু আপ ট্রেনের স্টপিজ তুলে নেয়া হয়েছে। ফলে জন সাধারণের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উল্লেখ্য সকালে কুমিল্লার দিকে যাওয়ার একটি জালালাবাদ লোকাল ট্রেন কসবা ষ্টেশনে স্টপিজ থাকলেও যথা সময়ে ট্রেনটি যাতায়াত না করায় ঘন্টার পর ঘন্টা যাত্রী সাধারণকে বসে থেকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। ডেমো ট্রেনের মাধ্যমে এলাকার জনগণের দূর্ভোগ অনেকটা লাঘব হয়েছিল। এ ব্যাপারে কসবা রেল ষ্টেশনের সহকারী ষ্টেশন মো: আবদুল জব্বারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডেমু আপট্রেনের স্টপিজ তুলে নেয়া হয়েছে।
নাসিরনগরে ডাক বিভাগে লোকবল সংকট

জেলা সদরের সাথে সরাসরি ডাক ব্যবস্থা না থাকায় জনগণের ভোগান্তি
আকতার হোসেন ভুইয়া, নাসিরনগর॥ ইন্টারনেট-মেইলের ডিজিটাল যুগে তড়িৎ অনেক কিছু সম্ভব হলেও চিঠিপত্র আদান-প্রদানের মূল মাধ্যম ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয়তা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। ডিজিটাল যুগে মোবাইল, এস.এম.এস ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় অনেক কাজ সম্ভব হলেও সরকারি চাকুরি, অফিস-আদালতের যোগাযোগ এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমেই চলছে নির্বিঘেœ। কোন কোন ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলেও একভাগ কাজ সম্পন্ন করতে এখনো ডাক বিভাগের দ্বারস্ত হতে হচ্ছে সকলকে। যেমন শিক্ষক নিবন্ধন বা চাকুরির আবেদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক আবেদন করা, টেলিটক সিমের মাধ্যমে ফি জমা দেয়া, প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা ডিজিটাল ভাবে হলেও আবেদনের প্রিন্ট কপিসহ সার্টিফিকেট কপি উপস্থাপনের জন্য ডাক বিভাগে যেতে হয়। অনেক সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে এখনো ডাক বিভাগের মাধ্যমে এনালগভাবে সম্পন্ন হয়ে থাকে। এছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে পূর্বের চেয়ে চিঠিপত্র কম আদান-প্রদান হলেও ডাক বিভাগের মাধ্যমে টাকা পাঠানো খুবই জনপ্রিয় পদ্ধতি হওয়ায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নাসিরনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিতভাবে ডাক আসায় ভোগান্তি হচ্ছে জনগণের। খোজঁ নিয়ে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে অনিয়মিত ডাক আসায় উপজেলার সকল পোষ্ট অফিস গুলো প্রায়ই ডাক শূন্যভাবে দিন কাটাতে হচ্ছে। নাসিরনগর থেকে ডাক ফান্দাউক হয়ে নয়াপাড়া যায়, সেখান থেকে আখাউড়া রেল ষ্টেশন হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন স্থানে যায় এবং একই রাস্তায় ডাক আসে। ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নাসিরনগরে ডাক আসতে কোন কোন সময় ৪/৫দিন লাগে। এতে জনগণ ডিজিটাল যুগে ডাক পেতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। নাসিরনগর থেকে ডাক  সরাসরি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা-যাওয়ার এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি হলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তা আমলে নিচ্ছে না। নিয়মিত ডাক আসা-যাওয়া না করায় সাব পোষ্ট অফিস গুলো কর্মহীন হয়ে পড়ে। দায়িত্বরত উপজেলা পোষ্ট মাস্টার বাদল চন্দ্র সিংহ রায় বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে জানায় এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন। এর বেশী  কিছু বলতে নারাজ। এদিকে উপজেলা পোষ্ট অফিসে জনবল সংকটের কারণে  প্রতিদিন গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছে। অনেকে ডাকের জন্য অপেক্ষা করে বিরক্ত হলেও ডাক বিভাগের লোকজন কোন সদুত্তর দিতে পারছে না।  উপজেলা পোষ্ট অফিসে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পোষ্ট মাস্টারের পদসহ বেশ কয়েকটি পদ শূণ্য রয়েছে। ডাক পিয়নের ২টি পদের স্থলে ১ জন, অপারেটর ৩টি পদের মধ্যে ২টিই শূণ্য, প্যাকারের ১টি পদের মধ্যে ১টিই শূণ্য রয়েছে। কর্মরত উপজেলা পোষ্ট মাষ্টারের দায়িত্বে রয়েছে একজন অপারেটর। বর্তমানে দায়িত্বরত পোষ্ট মাষ্টার ও ডাক পিয়নকেই অফিসের সকল কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ এসব পদ শূণ্য পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তাছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় উপজেলা পোষ্ট অফিসের মূল ভবনসহ আবাসিক ভবনের বিভিন্ন স্থান থেকে আস্তর খসে পড়ছে। এদিকে উপজেলার অধিকাংশ পোষ্ট অফিসের নিজস্ব ভবন নেই। জরাজীর্ণ ঘরে কার্যক্রম চলছে দীর্ঘদিন ধরে। বিভিন্ন কারনে পোষ্ট অফিসের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে সাধারণ মানুষ। ঝুঁকে পড়ছে কুরিয়ার সার্ভিস ও মোবাইল ফোনে। গ্রামীণ জনসাধারণের নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য সারা দেশের ন্যায় নাসিরনগর উপজেলা পোষ্ট অফিসের আওতায় ১০টি শাখা পোষ্ট অফিস স্থাপিত হয়েছে। অফিস গুলোর বেশীর ভাগই ঘরের বারান্দায়, বাজারের দোকান ঘরে, বাড়িতে স্থাপন করে কোন রকমে কার্যক্রম চলছে যুগ যুগ ধরে। ফলে পোষ্ট অফিসের মূল্যবান চিঠিপত্র, পার্সেল ডকুমেন্টসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র অযতেœ-অবহেলায় পড়ে থাকছে সর্বদা। এছাড়াও বিলম্বে ডাক আসায় ও গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র সঠিক সময়ে বিলি না হওয়ায় সর্বদা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষে। অনেকে চাকরির যোগদান পত্র ও ভাইভা কার্ডও পায় না সময়মত। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ দিনে দিনে পোষ্ট অফিসের উপর আস্থা হারিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের উপর নির্ভর করছে। অভিজ্ঞমহল মনে করেন এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্রীয় সেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাবে। তাই এলাকাবাসীর স্বার্থ বিবেচনা করে জনগনের সেবার প্রতি সচেতন হয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আর্কষনসহ দ্রুত এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।
নবীনগরে বিদ্যুৎপৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
নবীনগর প্রতিনিধি॥ নবীনগরে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক পোল্ট্রি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামে। মৃতের নাম ইয়াছিন মিয়া-(২৭)। তিনি নবীপুর গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে। পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল সকালে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী ইয়াছিন মিয়া খামারের ময়লা পরিষ্কারের সময় হঠাৎ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে  পড়ে আহত হয়। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় আশুগঞ্জের বিশিষ্ট চিকিৎসক সোহরাব আহত
আশুগঞ্জ সংবাদদাতা ॥ সিএন্ডজি’র ধাক্কায় আশুগঞ্জে বিশিষ্ট চিকিৎসক সোহরাব মিয়া আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৮ টায় ডাঃ সোহরাব তার কর্মস্থল সোহরাব মেডিকেল সেন্টারে যাবার পথে সোনারামপুর হোটেলের কাছে পৌছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রী বোঝাই সিএনজি ধাক্কা দিলে তিনি পায়ে গুরুতর ভাবে আহত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে আজ ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে
জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক  জেলা কমান্ডার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মোঃ তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিশিষ্ট আয়কর আইনজীবী মোঃ জহিরুল ইসলাম ভূইয়া। এক শোক বার্তায় তিনি  মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
অমানবিক মারধোরে
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে কিশোর ইউসুফ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ আপন চাচী আর তার ভাইদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে ইউসুফ (১৫) নামের এক কিশোর। চাচা আর চাচাতো ভাইয়েরাও জোট বেধে মারধোর করে তাকে। অসহায় ও দরিদ্র ইউসুফের চিকিৎসা চলছে এলাকার লোকজনের সহায়তায়। এ ঘটনায় ইউসুফের দাদী মোছাম্মৎ জোবেদা খাতুন বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। এতে ছেলের বউ-এর দুই ভাই নরসিংসার গ্রামের জীবন মিয়া (৩০) ও সেলিম মিয়া (২৬), ছেলে ফিরোজ মিয়া (৪৫), দুই নাতি ইয়াছিন মিয়া (২২) ও মনির মিয়া (২০) এবং ছেলের বউ আনোয়ারা বেগম (৪২) কে আসামী করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের পয়াগ গ্রামে গত ২৯ মে এই ঘটনাটি ঘটে। ইউসুফ গ্রামের মৃত কুদ্দস মিয়ার ছেলে। প্রায় আড়াই বছর আগে তার বাবা মারা যান। কুদ্দুস মিয়া মারা যাওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রী ৫ ছেলে-মেয়ে নিয়ে অভাব-অনটনে দিনাতিপাত করছে। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ মে সকালে চাচী আনোয়ারা বেগম অহেতুক ইউসুফকে চর-থাপ্পর মারে। ইউসুফের মা কমলা বেগম এর প্রতিবাদ করলে তাকেও প্রানে মারার চেষ্টা করা হয়। পরে সে নিজের ঘরে ডুকে জীবনরক্ষা করে। এঘটনার পরই আনোয়ারা পাশের গ্রাম থেকে তার দুই ভাই জীবন মিয়া ও সেলিম মিয়াকে খবর দিয়ে তার বাড়িতে আনে। এরপর জীবন মিয়ার নেতৃত্বে আনোয়ারা, তার স্বামী, দুই সন্তান ও আরেক ভাই একত্রিত হয়ে কিশোর ইউসুফের ওপর হামলা চালায়। দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্নস্থানে জখম করে। তাকে গলাটিপে হত্যারও চেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত ইউসুফকে ঐদিনই জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ৯ দিন থেকে চিকিৎসা নিয়ে ইউসুফ বাড়ি ফিরে যাওয়ার পর তার অবস্থার আবার অবনতি ঘটলে গত ৯ জুন তাকে এনে আবার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মামলার বাদী মোছাম্মৎ জোবেদা খাতুন জানান, তার নাতির অবস্থা এখন খুবই খারাপ। সে বাচে কিনা সেটাই সন্দেহ। কন্ঠনালিতে আঘাতের কারনে সে খেতে পারছেনা এবং রক্ত বমি করছে। এদিকে অসহায় ও দরিদ্র ইউসুফের চিকিৎসা চলছে এলাকার লোকজনের অর্থ সহায়তায়।
জেলা কমান্ডের নবনির্বাচিতদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমান্ডের নবনির্বাচিত জেলা ইউনিট কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশিদের নেতৃত্বে পুরো প্যানেল নির্বাচিত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহনওয়াজ খান ও মোঃ আব্দুল্লাহ- এর নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার বীর মুক্তিযোদ্ধারা নবনির্বাচিতদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। তারা নির্বাচিতদের দীর্ঘায়ূ ও সুস্বাস্থ্য কামনাসহ ভবিষ্যৎ এ তাদের নেতৃত্বে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের অধিকতর কল্যাণ বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন। জেলা ইউনিট কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশিদ তার এ মেয়াদে সকলকে সহযোগিতা করতে অনুরোধ করেন। এসময় ডেপুটি জেলা কমান্ডার এস এম আজিজুল ইসলাম মূসা, সহকারী জেলা কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ তাজুল ইসলাম ও মোঃ আব্দুল্লাহ্ খসরু, কার্যকরী সদস্য মোঃ লিয়াকত আলী, সদর উপজেলা সহকারী কমান্ডার হরিপদ বণিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ সফিকুল ইসলাম, ননী গোপাল মল্লিক, মোঃ তাজুল ইসলাম, সুবোধ চন্দ্র দাশ, হারাধন নিশ্বাস, মোঃ হোসেন, কে এম মফিজ, মুর্শিদ মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে
কসবায় কল্যাণ সাগর দিঘী খনন করে পুকুর ও জলাধার ভরাট
কসবা প্রতিনিধি ॥ সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে সপ্তদশ শতকে ত্রিপুরার রাজা ২২ একর ভূমিতে ঐতিহাসিক কল্যান সাগর দিঘীটি খনন করেন। বর্তমানে এর বেহাল চিত্র। গত ৫ বছরে এ দিঘী  থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি সরিয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্থান ভরাটে কসবার ভূ-প্রকৃতি এখন পূর্বের মতো নেই। কসবা উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন কসবা মহিলা ডিগ্রী কলেজের একমাত্র পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে কল্যান সাগর দিঘী থেকে মাটি নিয়ে। দিঘীর চারপাশের বাড়িঘর ইমারত সবকিছুই বিপর্যয়ের মুখে। ইতোমধ্যে দিঘীর পাড়সমূহ ভেংগে দিঘী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কসবা উপজেলা পরিষদ ও পেীর ভবন এলাকায় বিস্তীর্ন ভূমি ভরাট হয়েছে এই দিঘী থেকে ড্রেজারে মাটি নিয়ে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান মন্ত্রী কার্যালয়ের ২৫.০৫.২০০০ তারিখ ৬১. ৩৯. ১৭. ০০. ০৬.২০০০-২৫৮ (৫০০) স্মারকে জনস্বার্থে জারি করা আদেশে বলা হয় কোন অবস্থাতেই প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত জলাশয়, পুকুর ভরাট বা স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না। অথচ প্রশাসনের সামনেই চলছে প্রকৃতির এই অমানবিক নিধন।
সাবেক জেলা কমান্ডার
মোঃ তাজুল ইসলামের মৃত্যুতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের শোক
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ- ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোঃ তাজুল ইসলামের ইন্তেকালে জেলা কমান্ডার আলহাজ্ব মোঃ হারুন অর রশিদ গভীর শোক প্রকাশ সহ তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। বিবৃতিতে জেলা কমান্ডের নবনির্বাচিত ডেপুটি জেলা কমান্ডারদ্বয় গাজী মোঃ রতন মিয়া ও এস এম আজিজুল ইসলাম মূসা, সহকারী জেলা কমান্ডারবৃন্দ এস আর এম ফারুক, আলহাজ্ব মোঃ তাজুল ইসলাম, অরুণ জ্যোতি সরকার, মোঃ রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, মোঃ ফুল মিয়া সরকার, মোঃ আব্দুল্ল্যাহ্ খসরু, জহির উদ্দিন আহমেদ, মোখলেছুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ ও মোঃ হায়দার আলী, কার্যকরী সদস্যত্রয় কাজী মফিজুল ইসলাম, মোঃ মফিজুল ইসলাম ও লিয়াকত আলী গভীর শোক প্রকাশসহ তার আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আগামী শুক্রবার বিকাল ৪ টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে শোক সভা ও মিলাদ মাহফিলের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণের জন্যে সকলকে অনুরোধ করা হয়। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
সুফিয়া বারীর মৃত্যুতে
আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শোক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডঃ সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারীর সহধর্মিনী মিসেস সুফিয়া বারীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সোপানুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন বেপারী, টিচার্স ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম নিপু ও অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকা মন্ডলী। এক শোক বিবৃতিতে তারা বলেন, মিসেস সুফিয়া বারী ছিলেন একজন রাজনীতি সচেতন নারী। তিনি সমাজের উন্নয়নে কাজ করে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন সমাজ সচেতন এবং প্রকৃত দেশপ্রেমীকে হারালাম। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সম্পাদকীয়

যারা বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করতে চায় তাদের আমরা কী বরবো?
সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের জংগলীসার গ্রামে ্কটি বিদ্যালয়ের ভূমি জবর দখলের উদ্দেশ্যে ওই বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র লুটপাট করতে গিয়ে ১৪ জন এখন জেলহাজতে। ওই গ্রামের একটি ভূমি খেকো চক্র বিদ্যালয়ের জায়গা দখলের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এমনকি ভুল তথ্য দিয়ে আদালতে মিথ্যা দেওয়ানি মামলা পর্যন্ত করেছিল। কিন্তু ভূমি খেকো চক্রটি আদালতে মিথ্যা মামলা করেই ক্ষান্ত থাকেনি তারা বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র লুটপাট ও বিদ্যালয়টি ভাংচুর করে এর অস্তিত্বই নিশ্চিন্ন করতে চেয়েছিল। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করলে বিজ্ঞ হাকিম উপস্থিত আসামীর মধ্যে ১৪ জনকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে জংগলীসার গ্রামের ভূমিদস্যু ওই চক্রটি গ্রামটিকে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করার জন্যই বিদ্যালয়ের জায়গাটি গ্রাস করতে ওঠে পড়ে লেগেছিল। আর সেজন্যই তারা বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র লুটপাটসহ ভাংচুর চালিয়ে বর্বরতার নগ্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যারা বিদ্যালয়ের জমি গ্রাসের জন্য বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র লুটপাট করে বিদ্যালয়ে ভাংচুর চালায় তাদেরকে কী আমরা সভ্য সমাজের সদস্য বলব? জংগলীসার গ্রামের বর্বরোচিত এ ঘটনা পত্র পত্রিকায় দেখে ওই এলাকা তথা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সম্পর্কে দেশের অন্যান্য অংশের মানুষের মনে কী ধারণা জন্মাবে? যারা বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করতে চায় তাদেরকে কী আমরা মানুষ বলব? এসব হাজারো প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে জংগলীসার গ্রামের বিদ্যালয় দখলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
যে কোন মূল্যে বিদ্যালয় ও বিদ্যালয়ের জায়গা রক্ষা করতে হবে আলোচিত সমাজ গড়ার জন্যেই। যে সমাজে এসব ভূমিদস্যুদের কোন স্থান বা মর্যাদা থাকবেনা। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ওই এলাকাটি এমনিতেই অনগ্রসর। এ বিদ্যালয়টি জংগলীসার গ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উন্নতি, সমৃদ্ধি তথা আলোর পথে। আর ওই গ্রা এগিয়ে গেলে এসব ভূমিদস্যুদের অধিপত্য লোপ পাবে। সে দূরভিসন্ধি থেকেই তারা বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করতে চায়। বিদ্যালয়টি নিশ্চিহ্ন করতে চায়। ওই গ্রামের শিশুদের অন্ধকারেই রাখতে চায়। তাই তাদের সব ষড়যন্ত্র রোধ করে বিদ্যালয় ও এর জায়গা রক্ষা করতে হবে সুন্দর আগামীর জন্যই।