25 October, 2014

চিনাইরে শিক্ষা ঃ গৌরব ও সাফল্যের উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ
বর্তমান শিক্ষানীতির ফলে দেশে শিক্ষার মান ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে
মোঃ বাহারুল ইসলাম মোল্লা॥ শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬২ বছর পূর্তি ও চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শিক্ষাঃ গৌরব ও সাফল্যের উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। চিনাইর আঞ্জুমান আরা উচ্চ বিদ্যালয় এবং চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ আরো বলেন, সৎ লোকের শাসন কায়েমের কথা বলে বিগত সরকার দেশে ব্যাপক দুর্নীতি করেছিল। দেশের প্রতিটি সেক্টরেই ছিল তখন বিপর্যয়। বিদ্যুতের কারণে দেশের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশ আবার ঘুরে দাড়াচ্ছে। বর্তমানে আমরা সাড়ে ১১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। তিনি বলেন আমরা খাদ্যে সয়ম্ভরতা অর্জন করেছি। কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দেশে বিপ্লব হয়েছে। মন্ত্রী পরিষদে সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা অচিরেই শ্রীলংকায় ৫০ হাজার মেট্টিক টন খাদ্য রপ্তানী করব। আমরা উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছি। ২০২১ সালের মধ্যে আমরা দেশকে মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হতে চাই। সে লক্ষেই বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন দেশকে এগিয়ে নিতে হলে আগে নিজেকে বদলাতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যাবেনা। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বিশ্বমানের শিক্ষা, বিশ্বমানের জ্ঞান ও বিশ্বমানের দক্ষতা প্রয়োজন। সে লক্ষেই সকলের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা করেছে। বর্তমান শিক্ষানীতির ফলে দেশে শিক্ষার মান ও শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনেই ১শত কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০টি উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় নতুন ভবন নির্মান করা হচ্ছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে সদর আসনের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মান করা হবে। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উন্নয়নে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে চালুকৃত প্রতিটি অনার্স বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু করা হবে। যাতে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শুধু নতুন নতুন ভবন নির্মান করলেই দেশ এগিয়ে যাবেনা। শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হচ্ছে আমাদের বড় কাজ। আর এই অঞ্চলে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজ করছেন মোকতাদির চৌধুরী এম.পি। তিনি আগামী প্রজন্মকে বিশ্বমানের শিক্ষা, বিশ্বমানের জ্ঞান ও বিশ্বমানের দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন। শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, মোকতাদির চৌধুরী এম.পি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে শিক্ষার উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, চিনাইরে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করছি। ১ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ে চিনাইরে কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য নতুন দু’টি ভবন নির্মান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নয়ন করা হবে। একটি প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নের জন্য মোকতাদির চৌধুরী এম.পি যেভাবে কাজ করছেন সেজন্য আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই। শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি আরো বলেন, আমরা ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার জন্য কাজ করছি। এ জন্য প্রথমেই দরকার শিক্ষা। বর্তমান সরকার যে শিক্ষানীতি গ্রহন করেছে তা দলীয় নয়, জাতীয় শিক্ষানীতি। সবার মতামত নিয়ে এ শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার গুনগত পরিবর্তন আনতে চাই। গতানুগতিক শিক্ষা আমরা চাইনা। আমরা চাই বিশ্বমানের শিক্ষা, দক্ষতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ চাই নতুন প্রজন্মের কাছে। তিনি বলেন, আমরা যখন ক্ষমতা নেই তখন দেশে ১ ভাগ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা নিত। এখন নিচ্ছে ৮ ভাগ। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতির ক্লাশ রুম চালু করেছি। বর্তমানে ২০ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল ক্লাশ রুম চালু আছে। জাতিসংঘ ২০১৫ সালের মধ্যে প্রাথমিকে ছেলে-মেয়ের সমতা চায়। অথচ ২০১২ সালেই বাংলাদেশ এ লক্ষ্য অর্জন করেছে। মাধ্যমিকে মেয়েরা এগিয়ে। আগামী তিন বছরের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক ও সাত বছরের মধ্যে উচ্চ শিক্ষায়ও মেয়েরা এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়েছে তা উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ অবস্থাকে ধরে রাখতে হবে। সবাইকে এ জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককেই যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব। মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজš§ হচ্ছে আমাদের ভরসা, তাদেরকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশের আগামী দিনের ভবিষ্যত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডঃ কামরুল ইসলাম এম.পি বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষেরা এই অঞ্চলের শিক্ষার জন্য যে বীজ বপন করেছিলেন, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন এই অঞ্চলের জনপ্রিয় নেতা মোকতাদির চৌধুরী এম.পি। তিনি তাদের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে শিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে  এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আজ ছোট শিশুরাও ল্যাপটব মোবাইল ফোন নিয়ে খেলা করে। তিনি বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মিত হবে। আমরা সেই সেতু দিয়ে গাড়ি নিয়ে যেতে পারব। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন দেশ এগিয়ে যাচ্ছে তখন একটি গোষ্ঠী দেশকে আবার পিছিয়ে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তাদের সেই অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ হারুন অর রশিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইন্দু ভুষন ভৌমিক। বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ডঃ মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা সচিব শিক্ষা সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান পিপিএম (বার), পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল আহম্মদ। এর আগে সকালে শিক্ষা মন্ত্রী  নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নব-নির্মিত শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবনের উদ্বোধন করেন। পরে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হানিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সহ শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। সরকার যে শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে তা দলীয় নয়, জাতীয় শিক্ষানীতি। সবার মতামত নিয়ে এ শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে দেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার গুনগত পরিবর্তন আনতে চাই। গতানুগতিক শিক্ষা আমরা চাইনা। আমরা চাই বিশ্বমানের শিক্ষা, দক্ষতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি। পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ চাই নতুন প্রজন্মের কাছে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর তারই সুযোগ্য কন্যা  প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব। অনুষ্ঠনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, শিক্ষা সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম খান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডঃ হারুন অর রশিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে  ৪ তলা বিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণ করে।
গোলাম আযমের লাশ নবীগরে না আনার দাবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ জামায়ত নেতা ও মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডিত গোলাম আযমের লাশ তার জন্মভূমি নবীনগরে না আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সাথে তার গ্রামের বাড়ি বীরগাঁওয়ে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠানের চেষ্টা করা হয়। সেখানে এখন পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রেণী পেশার মানুষের সমন্বয়ে নবীনগর পৌর এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পরে প্রেসক্লাবের সামনে জহির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মো. শফিকুল ইসলাম, এম জসিম উদ্দিন, শামছুল ইসলাম দুলাল, মো. নাছির উদ্দিন প্রমুখ। বক্তারা গোলাম আযমের লাশ নবীনগরে আনার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দেন। তারা বলেন, ‘একজন যুদ্ধাপরাধীর লাশের ভার আমরা নিতে চাই না। তাকে প্রয়োজেন পাকিস্তানে নিয়ে কবর দেওয়া হোক’। এদিকে বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. কবির আহমেদ জানান, গোলাম আযম প্রতিষ্ঠিত একটি মাদ্রাসার পক্ষ থেকে গায়েবানা জানাজার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয় নি। তবে সব মিলিয়ে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে’। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আমরা চাই গোলাম আযমের মরণোত্তর বিচার হোক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় তার জন্ম বলে আমরা লজ্জাবোধ করি’।
ফলোআপ-ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু
বাঞ্ছারামপুরে ক্লিনিকের সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥   বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ভুল চিকিৎসায় সাজিদা আক্তার (২৮) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা দিলেন তিতাস ইউনিটি হাসপাতালে এমডি। গতকাল শুক্রবার হাসপাতালের দোতলায় এক শালিসে এ জরিমানা দেন তিনি। এতে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী এক মাসের মধ্যে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করার কথা। এসময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ এলাকার অর্ধশত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যাপারে তিতাস ইউনিটি হাসপাতালের পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘হাসপাতালের এমডির ভুলে রোগীর মৃত্যু এবং সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা দিয়েছে। এর পুর্বে বুধবার ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি সাজিদা আক্তারের মৃত্যু হয় এবং এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি তিতাশ হাসপাতাল ২ ঘন্টা তালা দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।
নবীনগরে কালী মূর্তি ভাংচুর
নবীনগর প্রতিনিধি॥ নবীনগরে চাঁদা না পেয়ে কালী মুর্তি ভাংচুর করেছে একদল দুর্বুত্ত। এছাড়া মারধর করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার লাউর ফতেহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে শুক্রবার বিকেল নাগাদ এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয় নি। লাউর ফতেহপুর গ্রামের প্রদীপ বনিক জানান, এলাকার কাজল বনিকসহ অন্যান্যরা তার বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে কালীপূজার আয়োজন করে। এর আগে এলাকার কিছু দুর্বৃত্ত কাজল বনিকের কাছে চাঁদা চায়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় রাত আড়াইটার দিকে দুর্বত্তরা কালী মূর্তিটি ভাংচুর করে। এদিকে শুক্রবার সকালে কাজল বনিক বাজারে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। কাজল বনিককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে থানায় বিষয়টি জানানো হয় নি।
লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.), হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ধর্ম নিয়ে আক্রমণাত্মক কথা বলে মুসলিম উম্মাহসহ দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত দিয়েছেন। এই বক্তব্যের পরপরই প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন। পরে আওয়ামী লীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সভা ডেকে গঠনতন্ত্র মেনে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। নোটিশের যে জবাব তিনি দিয়েছেন সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে বিশ্লেষণের পর সন্তোষ জনক মনে না হওয়ায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে জানাবো। তারাই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। লতিফ সিদ্দিকী এ বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন কিনা-এমন এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক প্রথমে ‘না’ বললেও পরে ‘হ্যাঁ’ বলেন। এ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলে পরে সাংবাদিকরা আবারও সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে কথা বলতে যান, কিন্তু পরে তার সঙ্গে আর কথা বলা যায়নি।
চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজে
আজ অনুষ্ঠিত হবে সংসদ বির্তক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ আজ শনিবার চিনাইর বঙ্গবন্ধু অনার্স কলেজে অনুষ্ঠিত হবে সংসদ বির্তক। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য সংসদ বির্তকে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি। চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের অধ্যক্ষ মকবুল আহাম্মদের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন মাউশির মহা-পরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। বিকেল ৩টায় চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিজ্ঞান ও খাদ্য মেলা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন মাউশির মহা-পরিচালক প্রফেসর ফাহিমা খাতুন। চিনাইর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অনার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম শিবলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে বাউল উৎসব ও নৃত্যসন্ধ্যা।
ঝাড়ু হাতে রাস্তায় পুলিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ পুলিশ মানেই সাধারণত হাতে বন্দুক নিয়ে কঠিন স্বভাবের কোন মানুষের প্রতিচ্ছবি মনে গাঁথা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে শুক্রবার পুলিশের চিরাচরিত এ ছবিই যেন বদলে গেল চট্টগ্রামবাসীর কাছে। নগরীর রাস্তায় ঝাড়ু হাতে দেখা মিললো নগর পুলিশের (সিএমপি) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে অধস্তনদের।  বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সড়কে ময়লা পরিষ্কার করছে তারা। পুলিশের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ঝাড়ু হাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ সিএমপি কমিশনার আব্দুল জলিল মণ্ডল। শুক্রবার সকাল ১০টা জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রায় দেড়ঘণ্টার এই অভিযানে প্রায় এক হাজার পুলিশ অংশ নেয় বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মনি কুসুম দেওয়ান। তিনি বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নগরীর বিভিন্ন থানা, ডিবি, এসবি, ট্রাফিকের প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছে।  প্রথম দিনের আমরা জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গন, মোহাম্মদ আলী সড়কের প্রবেশ মুখ থেকে ইস্পাহানী মোড় এবং সেখান থেকে কাজীর দেউড়ি হয়ে আলমাস সিনেমা হল পর্যন্ত সড়ক ও এর ফুটপাতের ময়লা পরিষ্কার করেছি। এ ধরণের অভিযান প্রতি শুক্রবার অব্যাহত রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. হাছান চৌধুরী বলেন, পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সড়কের ময়লা পরিষ্কার ও ঝাড়ু দেয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ব্যাপারে আমরা নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। “নগরবাসীর অভিযোগ, সড়কে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন নেই যার কারণে তারা যেখানে সেখানে ময়লা ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন। আমরা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে পরবর্তী কোন বৈঠকে এ ব্যাপারে আলাপ করবো। ঝাড়ু হাতে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মনজুর মোরশেদ।  সকাল সাড়ে দশটার দিকে তিনি বলেন, ছয়টি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ পরিচ্ছন্নতা কাজ চলছে। কমিশনার মহোদয়ের নির্দেশে আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়েছি। এদিকে, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ব্যাপক সাড়া ফেলে সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যাত্রীদের মনে।  অভিযান চলাকালে গাড়ি থামিয়ে অনেককে মোবাইলে ছবি তুলতে দেখা গেছে।  পুলিশের এধরণের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন তারা। অনেকের মধ্যে আবার দেখা গেছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।  কাজীর দেউড়ি এলাকায় শাহীন নামে এক পথচারী   মন্তব্য করেন, ‘এই দেশে সমস্যাই হলো যার কাজ সে করে না, খালি অন্যের কাজ নিয়ে মাথা ঘামায়।
জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট
আজকের খেলা স্থগিত ॥ নাসিরনগর বনাম আশুগঞ্জের পুনরায় খেলা আগামীকাল রবিবার
জেলা ক্রীড়া সংস্থা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়োজনে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আজকের শনিবারের খেলা অনিবার্যকারণ বশতঃ স্থগিত করা হয়েছে। খেলাটি আগামী ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। গত ২৩ অক্টোবর নাসিরনগর বনাম আশুগঞ্জের মধ্যকার বিতর্কিত খেলাটি আগামীকাল ২৬ অক্টোবর রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নিয়াজ মোহাম্মদ স্টেডিয়ামে পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে। আশুগঞ্জ বনাম নাসিরনগরের ঐ দিন খেলাটি মাত্র ৩০ মিনিট অনুষ্ঠিত হয় যেটা আন্তর্জাতিক ফুটবল ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোন আইনের মধ্যেই পড়েনা। সব দিক বিবেচনা করে খেলাধূলার বৃহত্তর স্বার্থে টুর্নামেন্টের টেকনিক্যাল কমিটির আহবায়ক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ সৈয়দ আব্দুল কবীর তপন, সদস্য ডি.এফ.এ, সভাপতি অ্যাডঃ ইউসুফ কবীর ফারুক ও সদস্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ মোঃ আসলাম প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
ইলিয়াছ খানের নেতৃত্বে
শেরপুরের শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর আওয়ামীলীগে যোগদান
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এম.পি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আল মামুন সরকারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে শহর আওয়ামীলীগের উদ্যোগে শেরপুর এলাকা থেকে বিএনপি সমর্থিত মোঃ ইলিয়াছ খান, সিরাজুল ইসলাম খান (ধন মিয়া) আজাদ খাঁন, মোঃ জামির খান, আসলাম খান, সোহাগ খান, মোঃ কাউছার খান, মোঃ আরমান খান, মোঃ মহসিন খান সহ শতাধিক নেতা কর্মী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। যোগদান শেষে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আপনাদের যোগদানই প্রমান করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের নবগঠিত আহবায়ক কমিটি বাতিলে দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে পদবঞ্চিত যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। সকালে উপজেলা যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির সিকদার ও নবগঠিত কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক ইলিয়াস আলীর নেতৃত্বে যুবলীগ কর্মীরা স্থানীয় রেলগেইট এলাকা বিক্ষোভ মিছিলটি বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে হোটেল ধানসিড়ির সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। উপজেলা যুবলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির সিকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নবগঠিত কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক ইলিয়াস আলী, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক আতাউর রহমান কবীর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ সালাহ উদ্দিন প্রমুখ। বক্তারা সকল নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নতুন কমিটি ঘোষনার দাবি জানান। ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বাতিল করা না হলে ২৯ অক্টোবর থেকে আশুগঞ্জে হরতালসহ কঠোর কর্মসুচী দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর জিয়া উদ্দিন খন্দকারকে আহবায়ক, শাহিন আলম বকশি ও ইলিয়াস আলীকে যুগ্ম-আহবায়ক করে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অনুমোদন দেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হারুন আল রশিদ।
রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্ক ॥ গোলাম আযমের মৃত্যুর পর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশসহ রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গণভবনের আশপাশের এলাকা থেকে শুরু করে মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয় ও এর আশপাশ, ফার্মগেট, বাংলামটর, শাহবাগ, হাইকোর্ট, পল্টন, কাকরাইল, রামপুরা এলাকায় জলকামানসহ অত্যাধুনিক সাজোয়া যান নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। পুলিশের দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ১০টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে রাত মারা যান গোলাম আযম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। শুক্রবার সকাল ৭টার কিছু পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে গোলাম আযমের মরাদেহ ময়না তদন্ত শেষে মগবাজারের কাজী অফিস গলির নিজ বাসায় নিয়ে যান তার বড় ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আযমী।
বিজেশ্বরের নাঈম হত্যা মামলা সিআইডিতে প্রেরণের জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বাদী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রিপোর্ট ॥ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সদর উপজেলার বিজেশ্বরের নাঈম হত্যা মামলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিআইডিকে দেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন জানিয়েছেন মামলার বাদী নাসির মিয়া। সিআইডি’র অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে বাদী নাসির মিয়া লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। মামলার বাদী লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন নাঈম হত্যা মামলার ১নং আসামী উলচাপাড়া গ্রামের অলি মিয়ার ছেলে হাবিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করে গত ৯ অক্টোবর আদালতে প্রেরণ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড প্রার্থনা করেন। পরবর্তী ১৪ অক্টোবর শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তিনি আসামীকে রিমান্ডে এনে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করেননি। এমনকি তার আকুতি মিনতিতে কোনরূপ কর্ণপাতও করেননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমতাবস্থায় তার মনে যথেষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে যে, বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তার দ্বারা তার পুত্র নাঈম হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে না। তাই তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায় বিচারের স্বার্থে নাঈম হত্যা মামলাটি সিআইডি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাতে ন্যস্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ১৪/৯/২০১৪ তারিখ সন্ধ্যে সাড়ে ৭ টায় নির্মান শ্রমিক নাঈম বাড়ি থেকে বের হয়ে উলচাপাড়া বাজারে আসে। রাত সাড়ে ১০ টার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন রাতে তার মৃতদেহ উলচাপাড়া সুইরাখোলা থেকে পুলিশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নাঈমের পিতা রিক্সাচালক নাসির মিয়া বাদী হয়ে উলচাপাড়ার অলি মিয়ার পুত্র হাবিব মিয়া (৪০) কে আসামী করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মডেল থানায় মামলা করেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবুল খায়ের জানান, রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে আসামীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। আবারো রিমান্ডের আবেদন করবেন।
আলহাজ্ব আবদুল হেলিমের মৃত্যুতে
কাজী শফিক কলেজের শোক
গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় ঘাটুরা গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবক বর্তমানে পশ্চিম পাইকপাড়া নিবাসী আলহাজ্ব আব্দুল হেলিম (৮২) বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাস ভবনে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না … রাজিউন)। তার মৃত্যুতে কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কলেজের (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ এ কে সৈয়দ হাশমত উল্লাহ, উপাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জহির উদ্দিন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকমন্ডলী, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন। শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ শোক সন্তপ্ত পরিবারের সকল সদস্যদের শোক সহ্য করার তওফিক দানের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা হয়। উল্লেখ্য যে, আলহাজ্ব কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের মামা মরহুম আলহাজ্ব আব্দুল হেলিমের ১ম জানাযার নামাজ বাদ আছর মরহুমের বর্তমানে বাড়ি পশ্চিম পাইকপাড়া সংলগ্ন ট্যাংকের পাড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এবং ২য় জানাযার নামাজ বাদ মাগরিব গ্রামের বাড়ি ঘাটুরায় অনুষ্ঠিত হয়। সমাজের বিশিষ্টজন ও আত্মীয়স্বজনসহ অগণিত শুভাকাঙ্খী জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে তাকে ঘাটুরা পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৫ মেয়ে রেখে গেছেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
সুহিলপুর অতীত ও বর্তমান গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনকালে প্রফেসর আব্দুন নূর
ইতিহাসকে অস্বীকার করে জাতির উন্নতি-প্রগতি সম্ভব নয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ আব্দুন নূর বলেছেন, ইতিহাস আবেগ দিয়ে নয়, বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে চলে। আজকের দিনটি আগামী দিনের কালের সাক্ষী হয়ে থাকবে। ইতিহাসকে অস্বীকার করে জাতির উন্নতি প্রগতি সম্ভব নয়। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ বৃহত্তর সুহিলপুর সমিতি আয়োজিত মোঃ ইকবাল মিয়া সম্পাদিত সুহিলপুর অতীত ও বর্তমান গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন এটির মাধ্যমে সুহিলপুরের ইতিহাসের যাত্রাপথের শুরু হলো। বৃহত্তর সুহিলপুর সমিতির সভাপতি শেখ হেলাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অধ্যক্ষ মোঃ সোপানুল ইসলাম সোপান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিটি শিক্ষিত মানুষ দেশের কাছে দায়বদ্ধ। ইকবাল মিয়া সেই দায় থেকে মুক্তি পেলেন। এটি শুধু   সুহিলপুরে নয় সমগ্র বাংলাদেশের ইতিহাস। এই বইটি তাকে আলোকিত করেছে। তাকে ইতিহাস করেছে। তিনি সুস্থ্য ধারার সংস্কৃতি চর্চার উপর গুরুত্বারোপ করে আরো বলেন, বিনোদন ছাড়া মানুষ বলতে পারে না। একটি সুন্দর বই বিনোদনের সেই অভাব পুরনের মাধ্যমে সুস্থ্য জাতি গঠনে ভূমিকা রাখে। তিনি বইটির ইংরেজিতে অনুবাদের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ মোঃ ওবায়দুর রহমান, ইসলামিক সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারী আলহাজ্ব শওকত হায়াত খান, স্কলাষ্টিকা কিন্ডার গার্টেন এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক নূর মোঃ হাজারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুহিলপুর অতীত ও বর্তমান গ্রন্থের সম্পাদক মোঃ ইকবাল মিয়া। বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর কবির দুলাল, অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, শিক্ষক আমিনুল ইসলাম গোলাপ, বিষ্ণু পদ দেব, হাফিজুর রহমান, যুবলীগ নেতা মোঃ আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। সভা উপস্থাপনা করেন আশরাফুল লতিফ তুহিন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
উপজেলা প্রবর্তন দিবস উপলক্ষে
বিজয়নগরে জাপার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
গত বৃহস্পতিবার বিজয়নগর উপজেলা জাতীয় পার্টির উদ্যোগে উপজেলা প্রবর্তন দিবস উপলক্ষে বিজয়নগর উপজেলা মরিয়ম কিন্ডার গার্টেনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা মোঃ আরব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজয়নগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আজিজুল ইসলাম দুলাল। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজয়নগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ বারী। মোঃ ফারুক দস্তগীর মাটি ফারুকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জাতীয় পার্টির নেতা আদম খা, জামাল খা, আহসান মাষ্টার, অ্যাডঃ আকরাম হোসেন, সাজিদ মিয়া, অলি আহমেদ, মোঃ কামাল মিয়া, ফয়েজ মিয়া, মোঃ শাহীন আলম, আল আমিন, আশিক মিয়া, অহিদ মিয়া প্রমুখ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুল ইসলাম দুলাল বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের উপজেলা প্রবর্তনকে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে। জনগণের দুর্দশা লাঘবের জন্য পল্লীবন্ধু এরশাদ দেশের প্রতিটি উপজেলায় কোর্ট কাচারীসহ সকল প্রশাসনিক অফিস আদালত স্থাপন করেছিলেন। যা বর্তমান উপজেলা পরিষদের মধ্যে এখনও সকল প্রশাসনিক অফিস আদালত সঠিকভাবে স্থাপিত হয় নি। তাই সরকারের কাছে আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে সকল অফিস আদালত দেশের প্রতিটি উপজেলায় সঠিকভাবে স্থাপন করার জন্য। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
কসবার চন্দ্রপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড
কসবা প্রতিনিধি ॥ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের বাহাদুরপুর-চন্দ্রপুর গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে বাহাদুরপুর-চন্দ্রপুর গ্রামের সেনা সদস্য মো. শাহিন মিয়া, তার চাচা মো. বাবুল মিয়া ও আম্বিয়া বেগমের বাড়িতে অগ্নিকান্ডে নগদ অর্থ, বসত ঘরসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। স্থানীয় জনতা প্রায় ৪ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডঃ মো. আনিছুল হক ভূইয়া, মূলগ্রাম ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মইনুল হোসেন ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাপস চক্রবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
হাজী জহিরুল ইসলাম জারু মিয়ার মাতার মৃত্যুতে
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা বিএনপির শোক
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মোঃ জহিরুল ইসলাম জারু মিয়ার মাতার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলী আজম এক যুক্ত বিবৃতিতে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)
আশুগঞ্জে ইয়াবা সহ যুবক গ্রেপ্তার
আশুগঞ্জ সংবাদদাতা ॥ গতকাল শুক্রবার বিকেল ৫ টায় আশুগঞ্জ থানার পুলিশ চরচারতলা একটি স্কুলের কাছ থেকে ৪৪পিস ইয়াবা সহ রুবেল (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে।
লতিফ সিদ্দিকীকে ফাঁসি দিতে হবে
– জুনাইদ আল হাবীবী
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া হালদারপাড়া, রাত ৯টায় কুট্টাপাড়া রাত ১০ টায় সুহিলপুর গ্যাস ফিল্ড মাঠ, রাত ১১ টায় সরাইল উছালিয়া পাড়া যুববৃন্দের উদ্যোগে ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় জমিয়তে উলামা ইসলামের সিনিয়র সহ সভাপতি হেফাজত ইসলাম ঢাকা মহানগরের মহাসচিব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃতি সন্তান আল্লামা জুনাইদ আল হাবিবী ৪টি ইসলামী মহা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তার সঙ্গে সমাবেশে ছিলেন জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতা আল্লামা হাফেজ আইয়ুব আলী, আল্লামা আলী আজ্জম, মাওঃ আমজাদ হোসেন, মাওঃ আজিজুল ইসলাম জালালী, মাওঃ মাহবুব মোঃ লাল বাদশা, হাফেজ ইদ্রিস, কেন্দ্রীয় ছাত্র জমিয়াতের নেতা হাফেজ শামিম, মাওঃ সিরাজ, মাওঃ রাশেদ প্রমুখ। সমাবেশে আল্লামা জুনাইদ আল হাবিবী বলেন, উপ মহাদেশের বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ, এদেশে শতকরা ৯০% মুসলমানের দেশে আল্লাহ এবং তার রাসুল (সাঃ) এর কুটুক্তি, হজ্ব ও তাবলিগ সম্পর্কে অপমাননাকারী আব্দুল লতিফকে ফাঁসি কাস্টে ঝুলাতে হবে। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি তৌহিদি জনতার পক্ষে থেকে লতিফকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে ১৬ কোটি মুসলমানের মনকে শান্ত করার আহবান জানান। (প্রেস বিজ্ঞপ্তি)

সম্পাদকীয়

শিশু শ্রমের বিরুদ্ধে তদারকি জোরদার করা হোক
শহরের বিভিন্ন হোটেল রেস্তোঁরায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধির খবর গতকাল শুক্রবার দৈনিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, তিন বেলা খাবার ও নাম মাত্র মজুরীতে এসব শিশু শ্রমিকদের আমানবিকভাবে খাটানো হচ্ছে। প্রতিবেশি দেশ ভারতে শিশু শ্রম বন্ধ সহ শিশু অধিকার আদায়ে সামাজিক আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি কৈলাস সর্ত্যার্থী নামের এক প্রকৌশলী শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন। ভারতের মতো বৃহৎ দেশে যখন শিশু শ্রম বন্ধের সামাজিক আন্দোলন যৌক্তি রূপ লাভ করেছে ঠিক এমনি সময়ে আমাদের দেশে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা নানা সেক্টরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
আমাদের দেশে নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। যার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি মিলেছে। যেমন শিশু ও মাতৃমৃত্যুর ক্ষেত্রে আমাদের সাফল্য এসেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু ভত্যি ও প্রায শতভাগের কাছাকাছি। কিন্তু ঝড়ে পড়ার হার সহনীয় পর্যায়ে নেই বলেই শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। দারিদ্রের কারণেই শিশু শ্রমিকের সংখ্যার উর্ধ্বগতি। কিন্তু শিশুর মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিটি শিশুর অন্নবস্ত্র শিক্ষা চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধানে রাষ্ট্রযন্ত্র সমর্থ হচ্ছে না যার প্রেক্ষিতে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিটি শিশুর শিক্ষা লাভের অধিকার রয়েছে। কিন্তু দারিদ্রের কারণে তা সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে যে বয়সে এসব শিশু বই খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাবার কথা সে বয়সেই তারা শ্রম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এর সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোঁরার মালিকেরা। তারা তাদের তিন বেলা খাওয়ানোর এবং নামমাত্র মজুরীতে তাদের শ্রম কিনে নিচ্ছে। তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে হোটেল শ্রমিকের মতো পরাধীন পেশায় জীবন আবদ্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে।
অপরদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অনুপস্থিতির কারণেও শিশু শ্রমিক বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুধু হোটেল রেস্তোঁরাই নয় ওয়ার্কসপ সহ বিভিন্ন সেক্টরে কঠিন পেশায় শিশু শ্রমে নিয়োজিত হচ্ছে। শ্রম অধিদপ্তর এবং নারী ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা জরুরী। বিদেশীদের কড়াকড়ি কারণে গার্মেন্ট সেক্টরে শিশু শ্রমিক নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। প্রতিটি শিশু যাতে সমান সুযোগ সুবিধা নিয়ে বড় হতে পারে এ পরিবেশ কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা ভাবতে হবে। হোটেল রেস্তোঁরায় শিশু শ্রম বন্ধ করার জন্য তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হোক। অন্যান্য সেক্টরেও যাতে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা না হয় সে বিষয়েও উদ্যোগ নিতে হবে।