ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা – নাসির খান

বর্তমানে মানুষের সামাজিক জীবনযাপন অনেকটাই ইন্টারনেটনির্ভর হয়ে যাচ্ছে। পারস্পরিক যোগাযোগ, আড্ডা, আলোচনাসহ দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রায় সবকিছুতেই এসব ইন্টারনেট ব্যবহৃত হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ৰেত্রে সব সময়ই তর্বণেরা এগিয়ে ছিল, কিন্তু সামাজিক জীবনযাপন এবঙ যোগাযোগের এই নতুন মাধ্যমটি ব্যবহারের সব বয়সের মানুষের মধ্যেই ব্যাপকতা লৰ করা যায়। ইন্টারনেট একটি মুক্ত জায়গা। সবাই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারেসহজেই। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট, বৱগ, অনলাইন ফোরামগুলো পরষ্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পথটি আরও সহজ করে দিয়েছে। প্রায় সব ৰেত্রেইড যেহেতু এই সেবাগুলো বিনা মূল্যে পাওয়া যায়,তাই ব্যবহারকারীর সংখ্যও বেশ দ্র্বত বাড়তে থাকে। এভাবেই অনেকে খুজে পান পুরোনো দিনের বন্ধুদের, সেই সঙ্গে নতুন নতুন বন্ধু পাওয়ার সুযোগ তো রয়েচেই। সহজ যোগাযোগের কারনে আবার বিপদও ঘটে। ইন্টারনেটে গুর্বত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা। প্রথমেই সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটের কথা বলা যেতে পারে, প্রাসঙ্গিকভাবেই এ ধরনের ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীরাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে থাকেন। তাইব্যবহারকারীর বন্ধু তালিকায় নতুনকারা যুক্ত হচ্ছেন, সেই বিষয়টি লৰ রাখতেহবে। সেই সঙ্গে ব্যবহারকারীর প্রোফাইরের কোন অংশটি কাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, সেটিও সঠিকভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। যেমন, স্বাভাবিকভাবেই অনেকে চাইবেন না যে তার পারিবারিক ছবিগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক অথবা বৱগে তার সব প্রকাশনাতেই যে কেউ মন্তব্য কর্বক। আর এই ওয়েবসাইটের পৃষ্টাগুলো বন্ধু তালিকার বাইরে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া থাকবে কি না, সেটি নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত।
ফেসবুক (www.facebood.com, মাইস্পেস (www.myspace.com) অর্কুট (orkut.com) এর মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ব্যক্তিগত গোপনীয়াতা নিযন্ত্রন করার বিভিন্ন সুবিধা অন্তুর্ভক্ত করাআছে। প্রোফাইলে যুক্ত করা প্রতিটি তথ্য কাদের জন্য উন্মুক্ত করা থাকবে, সেটি উলেৱখ করে দেওয়া যাবে। এ ছাড়া এখানে যে কোনো ছবির অ্যালবাম যুক্ত করারসময়ও একইভাবে বলে দেওয়া যাবে, কারা ছবিগুলো দেখতে পারবে। একইভাবে মাইস্পেসে গু অপপড়ঁহঃং- এর চৎরাধপু ট্যাব এবং অর্কুট প্রোফাইলের ওপরের ঝবঃঃরহমং থেকে এই ধরনের অপশনগুলো পাওয়া যাবে।
একইভাবে ছবি আদান-প্রদানের জন্য ফ্লিকার www.flickr.com এবং পিকাসা (picasaweb.google.com) বেশ জনপ্রিয়। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে সঙ্গে এখানে আরও একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, আর সেটি হলো ছবি ব্যবহার করার নীতি। অর্থাৎ ব্যবহারকারী যে ছগিুলো প্রকাশ করছেন, সেগুলো অন্য কেউ সরাসরি অথব আংশিক পরিবর্তন করে ব্যবহার করতে চাইলে অনুমতি দেওয়াহবে কি না, সেটি উলেৱখ করে দেওয়া। একই সঙ্গে যে কোনো ব্যবহারকারী মূল ছবিটি ডাউনলোড করতে পারবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত। ইন্টারনেটে প্রকাশিত ছবির লাইসেন্স কেমন হওয়া উচিত, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারা যাবে।
সামাজিক যোগাযোগের প্রোফাইল অথবা বৱগের লেখা উন্মুক্ত করে দেওয়া থাকলেই যে কেউ যা ইচ্ছা মন্তব্য করতে পারবে না। ছবি প্রকশের ৰেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে আঘাত দিয়ে অথবা অশালীন ছবি বা মন্তব্য প্রকাশের মাধ্যমে অপরকে হেয়প্রতিপন্ন করা যাবে না। এ ধরনের প্রায় প্রতিটি ওয়েবসাইটে সাধারণ ভাবে প্রকাশিত প্রতিটি মন্তব্য এবং ছবির নিচের অংশে রিপোর্ট অথবা অভিযোগ কর্বননমের একটি লিংক থাকে, যেটি ব্যবহার করে এ ধরনের যে কোনো অপরাধের বির্বদ্ধে অবিযোগ করা যাবে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ওই অভিযুক্ত ব্যবহারকারীকে সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে দেওয়া হতে পারে। এমনকি অনেক ৰেত্রে আইপি ঠিকানা অনুযায়ী ওই অভিযুক্ত ব্যবহারকারীকে সাময়িক অথবা স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে দেওয়া হতে পারে। এমনকি অনেক ৰেত্রে আইপি ঠিকানা অনুযায়ী বৱক করা হয়, ফলে পরবর্তী সম েকখনোই সেই ব্যবহারকারী সেখানে যুক্ত হতে পারে না।